চারটি ময়ূর থেকে ৩৭, ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়ায় ব্যতিক্রমী খামারে দর্শনার্থীদের ভিড়
নানা রঙের পালক আর অপূর্ব নৃত্যশৈলী দিয়ে মানুষের মন জয় করে নেওয়া পাখি ময়ূর। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়ায় এমনই এক ব্যতিক্রমী ময়ূর পাখির খামার গড়ে উঠেছে, যা এখন পুরো এলাকায় এক অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সদর উপজেলার গড়েয়া গোপালপুর গোপীনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠা এই খামারটিতে এখন সাদা রঙের ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৩৭টি ময়ূর রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই নয়নাভিরাম পাখিগুলোকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত দর্শনার্থী। মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শখের বশে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ময়ূরের বংশবিস্তার ঘটানোর ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। গোপালপুর গোপীনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে এই উদ্যোগের পেছনের কারিগর মন্দিরের অধ্যক্ষ পুষ্পশীলা। তিনি প্রথমে শখ করে মাত্র চারটি (নর ও মাদি) ময়ূর সংগ্রহ করে এখানে লালন-পালন শুরু করেছিলেন।
অত্যন্ত যত্নে ও নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সেই ময়ূরগুলো নিয়মিত ডিম দেওয়া শুরু করে এবং তা থেকে ফুটতে থাকে ছানা। খামারে নিয়োজিত পরিচর্যা কর্মী বিজয় কুমার সিং পরম যত্নে পাখিগুলোর দেখভাল করে আসছেন।
উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক লালন-পালনের ফলে ধাপে ধাপে বংশবিস্তার করে সেই ৪টি ময়ূর থেকেই বর্তমানে সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭টিতে।
প্রতিদিন গড়েয়ার এই খামার চত্বরে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সি মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রঙ-বেরঙের ময়ূরের পেখম তোলা আর অপূর্ব নৃত্য দেখতে আসা দর্শনার্থীরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ইটভাঙা যান্ত্রিকতার মাঝে এমন প্রকৃতিবান্ধব আয়োজন মন জুড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীদের অভিমত, সরকারি বা বেসরকারিভাবে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা পেলে এই খামারটি ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র বা ইকোপার্কে রূপ নিতে পারে।
