কলম্বিয়ার সেনাঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত, আহত ১৬
কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে।
কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সান লুকাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ছোট শহর সান্তা রোসা দেল সুরের একটি ঘাঁটিতে এ হামলা হয়। কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
দেশটির গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সহিংসতা বাড়ার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ধারাবাহিকতায় এটিই সর্বশেষ ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনটি বিস্ফোরণের পর ঘাঁটি থেকে ধোঁয়ার মেঘ উঠছে এবং সেনারা বালির বস্তা দিয়ে তৈরি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘যারা এই হামলার পেছনে ছিল… তাদের লুকানোর কোনো জায়গা থাকবে না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি হামলা কলম্বিয়াকে রক্ষার আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করে।’
এই এলাকাটি সোনার খনিতে সমৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে রয়েছে গালফ ক্ল্যান, ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) এবং কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর (ফার্ক) সাবেক সদস্যদের নেতৃত্বাধীন ছোট ছোট গোষ্ঠী।
রক্ষণশীল দে লা এসপ্রিয়েলা আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সহিংসতা তীব্র হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করেছেন এবং আরও বিমান হামলা, কিছু শহরে আরও সেনা মোতায়েন এবং ক্যারিবীয় উপকূল থেকে দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পাইপলাইনের মতো কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় যৌথ টাস্কফোর্স গঠনসহ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
দে লা এসপ্রিয়েলার সরকারের যুক্তি, আগের সরকারের দেওয়া যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গ্রামীণ এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করেছে, যেখানে তারা স্থানীয় ব্যবসা থেকে কর আদায় করে এবং মাদক ব্যবসা থেকে লাভ করে।
কিছু গোষ্ঠী এর জবাবে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত সপ্তাহে তোলিমা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় দুই মাস বয়সী এক শিশুসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সীমান্ত শহর কুকুতায় পুলিশের ওপর দূরনিয়ন্ত্রিত বোমা দিয়ে বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চার সপ্তাহে কলম্বিয়ায় রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বোমা বা বিস্ফোরক দিয়ে ৩৪টি হামলা চালিয়েছে, যা গত বছরের চার সপ্তাহের গড়ের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি।
২০১৬ সালের ফার্কের সঙ্গে শান্তি চুক্তির ফলে ১৪ হাজারের বেশি যোদ্ধা নিরস্ত্রীকরণের আওতায় আসেন। কিন্তু ছোট ছোট গোষ্ঠীগুলো এরপর থেকে বিদ্রোহীদের সাবেক এলাকা দখল নিয়ে লড়াই করছে।
