পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগে বেলুচ তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী সশস্ত্র হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হতাহত করার অভিযোগে বেলুচিস্তানের এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
গতকাল শনিবার ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আরিফ শাহবখশ। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি সুন্নি সশস্ত্র গোষ্ঠী জৈশ আল-আদলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সিস্তান-ও-বেলুচিস্তান প্রদেশের খাশ অঞ্চলের কালেহ বিদ পুলিশ ফাঁড়িতে সংঘটিত সশস্ত্র হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় তাঁর বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হন।
ইরানের বিপ্লবী আদালতে তাঁকে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ইরানি আইনে এ অপরাধকে মোহারেবে বা খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে কালেহ বিদ পুলিশ স্টেশনে হামলাটি ঠিক কবে সংঘটিত হয়েছিল এবং এতে কতজন পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সিস্তান-ও-বেলুচিস্তান প্রদেশটি পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে বেলুচ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও ইরানি শিয়া সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
জৈশ আল-আদল (যার অর্থ ন্যায্যতার সেনাবাহিনী) একটি সুন্নি বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে গোষ্ঠীটি।
প্রদেশটিতে সুন্নি বেলুচ জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তারা নিয়মিতই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চৌকি ও টহল দলকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময় প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়ে আসছে।
ইরান, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এই গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ির অংশ হিসেবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে তেহরান। এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর বার্তা দেওয়া হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।



