৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল-সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে পৃথক করা ছয়টি গ্রাম পুনর্বহালের দাবি এবং সদর উপজেলা বিভক্তকরণের উদ্যোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া সড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নিলে প্রায় সোয়া পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। একই সঙ্গে সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া ও আগরতলা সড়কে ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন ও তিতাস সেতু এলাকায় রেললাইন এবং পার্শ্ববর্তী স্থলবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
এর ফলে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি রেল করিডোরে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই অচলাবস্থার কারণে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ দূরপাল্লার একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে চরম শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
পাশাপাশি সীমান্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহনের দীর্ঘ জট তৈরি হয়।
আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল ভেঙে 'বরিশল' নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ৪ জুন এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়রা শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এলেও সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নকে একীভূত করে 'বরিশল' নামে নতুন একটি পৃথক উপজেলা গঠনের প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সদর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রশাসনিক মধ্যস্থতায় অবরোধকারীরা সাময়িকভাবে রেল ও সড়কপথ ছেড়ে দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁরা রাজপথ থেকে সরে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে পুনরায় কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
