ভুল আলমাসকে ধরে এক বছর কারাভোগ, অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

নামের মিলের কারণে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এক বছর কারাগারে রাখার ঘটনায় নির্দোষ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
২০০২ সালে মিরপুরে দায়ের হয় একটি অস্ত্র মামলা। দুই বছর পর ২০০৪ সালে পলাতক আসামি ঢাকার দোহারের মো. আলমাছকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।
রায়ের ২১ বছর পর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের নভেম্বরে, পুলিশ মো. আলমাসকে গ্রেপ্তার করে। এই পর্যন্ত ঘটনা ঠিক ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে গ্রেপ্তার আলমাসের স্বজনদের দাবিতে — তাঁদের দাবি, এই আলমাস সেই আলমাছ নন।
এ নিয়ে টানাটানির পর গত সেপ্টেম্বরে বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। এক রিটে ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল দিয়ে আলমাস (কারাগারে থাকা) এবং দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।
আদেশে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার তত্ত্বাবধানে একজন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অনুসন্ধান পরিচালনা করতে বলা হয়।
এ আদেশ প্রতিপালন করে ১ নভেম্বর প্রতিবেদন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ অনুসন্ধান করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা মো. আলমাস এবং মিরপুর থানার দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলমাছ দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি।
অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি মো. আলমাছ কানাডায় অবস্থান করছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর ধরে কারাগারে আছেন মো. আলমাস নামের আরেক ব্যক্তি। তবে তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর রোববার হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্দোষ আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন।
আদেশ অনুযায়ী, ভুল পরিচয়ে এক বছর ধরে কারাগারে থাকা মো. আলমাসকে এখন অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

