জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে চতুর্থ সপ্তাহের বিক্ষোভ, প্যারিসে সংঘর্ষ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রমাবনতিশীল জীবনমানের প্রতিবাদে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশজুড়ে এসব বিক্ষোভে প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেন ৪৬ হাজার মানুষ। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর হিসাবে, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল ৭৫ হাজার। এর কয়েক দিন আগেই শ্রমিক সংগঠনগুলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সতর্ক করে বলেন, যারা ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়াবে, তাদের মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় কম হলেও রাজধানী প্যারিসে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, প্যারিসের একটি চত্বরে ময়লার ঝুড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে প্রায় ২০০ জনের একটি দল পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
অনলাইনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে এবং লাঠিপেটা করছে। এ সময় এক পুলিশ সদস্যকে একজন বিক্ষোভকারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতেও দেখা যায়।
এদিকে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিওঁতে অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করে কয়েক শ মানুষ সড়ক অবরোধ করেন। পরে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
আল জাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, শনিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। তাদের অনেকেই তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এক রেলকর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তরুণদের পাশে দাঁড়ানোও জরুরি বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
বাটলার আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্বল হয়ে পড়া শ্রমিক সংগঠনগুলো এখন আন্দোলনে নতুন গতি দেখতে পাচ্ছে। কর্মীরা বেতন বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রে উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির এ সময়কে কাজে লাগাতে চান।
গত সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্বল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে জীবনযাত্রার মানের অবনতি ও নানা অসন্তোষকে কেন্দ্র করে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও এতে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ যুক্ত হয়েছেন।
এদিকে আগামী এপ্রিলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জনমত জরিপে ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের প্রার্থী মেরিন লো পেন এগিয়ে রয়েছেন। তার পরেই রয়েছেন বামপন্থী ফ্রান্স আনবোড দলের প্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ।
শনিবার প্রায় ১৭ হাজার সমর্থকের সামনে নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করেন মেলঁশোঁ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর নীতির বিপরীত পথে অর্থনীতি পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভোগব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি আনা এবং বিদ্যমান অর্থসম্পদ দেশের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রয়োজন পূরণে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন এই বামপন্থী নেতা।


