নির্বাচনের তিন দিন পর জানা গেল নিউ জার্সির শহরে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার চুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ক্র্যানবেরি টাউনশিপে একটি প্রতারণামূলক ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ঘটেছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আসে ৬ নভেম্বর, মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন দিন পর এবং চুরির পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে। এত দেরিতে তথ্য প্রকাশ করায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।
ক্র্যানবেরি টাউনশিপের মেয়র লিসা নাইরিম শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, টাউনশিপটি একটি ‘অত্যাধুনিক আর্থিক চুরি’র শিকার হয়েছে। চুরি যাওয়া অর্থ দিয়ে টাউনশিপের সাশ্রয়ী আবাসনের বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য জমি কেনার কথা ছিল।
অর্থ উদ্ধারের চেষ্টায় স্থানীয়, কাউন্টি, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। টাউনশিপের পুলিশ বিভাগ ও মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের নেতৃত্বে এই টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে বলে মেয়রের বিবৃতিতে জানানো হয়।
এ পর্যন্ত তদন্তকারীরা প্রায় ১ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের সম্পদ জব্দ করেছেন। ফলে প্রায় ৮৭ লাখ ডলার এখনো জব্দের বাইরে রয়েছে। টাউনশিপ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে আর কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
ঘোষণার পর টাউনশিপের ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা তথ্য প্রকাশের সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেন। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘এই তথ্য নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কেন গোপন রাখা হয়েছিল, তা আমি জানতে আগ্রহী।’ আরেকজন জানতে চান, ‘২৮ সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটে থাকলে এখন কেন জানানো হচ্ছে?’
মঙ্গলবারের স্থানীয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট থমাস শচুর জুনিয়র রিপাবলিকান ক্যারল হেয়ারিংকে হারিয়েছেন। নিউ জার্সি সেক্রেটারি অব স্টেটের কার্যালয়ের প্রকাশিত নির্বাচনের ফল অনুযায়ী শচুর পেয়েছেন ৬৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ভোট, হেয়ারিং পেয়েছেন ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। এই জয়ে ক্র্যানবেরি টাউনশিপ কমিটির পাঁচটি আসনেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকল।
মেয়র তাঁর বিবৃতিতে বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা স্বীকার করছি, এত বড় খবর স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করবে। সেই উদ্বেগ যৌক্তিক, এবং আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি।’
আর্থিক তদারকি জোরদার করতে এবং পৌর কার্যক্রম চালু রাখতে টাউনশিপ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মেয়র। টাউনশিপ কমিটি সোমবার দুটি নতুন পদ সৃষ্টির জন্য অধ্যাদেশ আনার পরিকল্পনা করছে—সহকারী টাউনশিপ প্রশাসক ও সহকারী প্রধান অর্থ কর্মকর্তা। এ ছাড়া অতিরিক্ত আর্থিক পরামর্শের জন্য একটি পৌর হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কর্মকর্তারা বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন, যাতে ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য উপায় খতিয়ে দেখা যায়। তবে টাউনশিপ কেন পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে দেরি করল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফক্স নিউজ ডিজিটাল এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্যের জন্য মেয়রের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।




