চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত সচেতনতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের মানুষের চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এ জন্য স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশের চক্ষুস্বাস্থ্যবিষয়ক বহুখাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা যাচাই ও চূড়ান্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চক্ষুরোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবলে চলবে না। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোও সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রত্যেককে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নিয়মিত যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারের পক্ষে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখ ও কিডনির ক্ষতির পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অন্যদিকে, চোখের ছানির অস্ত্রোপচার অনেকের জন্য ব্যয়বহুল। তাই রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের পাশাপাশি চক্ষুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে — বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, চক্ষু ও কিডনি রোগ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এসব রোগকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে আলাদা আলাদা চিকিৎসা দিয়ে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ।
বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কার্যকর গ্রুপ বা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যৌথভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এতে ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি ও চোখের ক্ষতি কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থেকে স্ট্রোকের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষ আগেভাগেই সচেতন হতে পারবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

