সুলিভান ভাইদের ইতিহাস: কাভানের জোড়া গোলে টরন্টোকে ৪-১ গোলে হারাল ফিলাডেলফিয়া
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৭ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলার কাভান সুলিভান ও তাঁর বড় ভাই কুইন সুলিভানের অসাধারণ নৈপুণ্যে ভর করে টরন্টো এফসিকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) এই ম্যাচে কাভান করেছেন জোড়া গোল এবং বড় ভাই কুইন একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল।
একই ম্যাচে একই ক্লাবের হয়ে দুই সহোদরের গোল করার ঘটনা এমএলএসের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার। এর আগে এমন বিরল পারিবারিক কীর্তি গড়েছিলেন গঞ্জালো ও ফেদেরিকো হিগুয়েইন এবং দিয়েগো ও ইয়িমি চারা ভ্রাতৃদ্বয়। সুলিভান ভাইদের এই কীর্তি তাই লিগের ইতিহাসের একটি বিশেষ পাতায় জায়গা করে নিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই কার্যকর ফুটবল খেলে ২৮তম মিনিটে ফিলাডেলফিয়াকে লিড এনে দেন কাভান সুলিভান। আক্রমণটির সূচনা করেছিলেন তাঁর বড় ভাই কুইন; তাঁর ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক উইলিয়াম ইয়ারবোরোকে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করার পর ফাঁকায় থাকা কাভানকে বল বাড়ালে তিনি অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন।
এরপর ৪১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন কুইন সুলিভান। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগমুহূর্তে প্রথমার্ধের যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে জর্জে মিহাইলোভিচের কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন টরন্টোর ফরোয়ার্ড জশ সার্জেন্ট।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে আসে সুলিভান ভ্রাতৃদ্বয়ের বোঝাপড়া। সতীর্থ ব্রুনো দামিয়ানীর হেড থেকে বল পেয়ে ক্ষিপ্র পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কুইন; এরপর পেছন থেকে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়া ছোট ভাই কাভানকে নিখুঁত পাস দেন তিনি। সেই পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের দুই পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ব্যক্তিগত জোড়া গোল পূর্ণ করেন কাভান।
পরবর্তীতে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দামিয়ানী গোল করলে ৪-১ ব্যবধানের দাপুটে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ফিলাডেলফিয়া। দুই ভাইয়ের সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় — কাভানের দুই গোল, কুইনের এক গোল ও দুটি গোলে সহায়তা।
এই জয়ে এমএলএস কাপ প্লে-অফের তিন ম্যাচের সিরিজে নিজেদের সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করেছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। চলতি মৌসুমে ১৪ জয়, ১২ হার ও ৮ ড্রয়ে মোট ৫০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে নিয়মিত মৌসুম শেষ করেছে দলটি।
ক্লাবটির ইতিহাসে এ নিয়ে দশমবারের মতো এবং গত নয় মৌসুমের মধ্যে অষ্টমবার প্লে-অফে পা রাখল তারা। নিয়মিত মৌসুমের শেষভাগে এসে এমন দাপুটে জয় প্লে-অফের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল।
এদিকে জাতীয় দলের আসন্ন নভেম্বর উইন্ডোর ঘোষিত স্কোয়াডে যুক্তরাষ্ট্র দলে জায়গা ধরে রেখেছেন কাভান সুলিভান। ফলে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে নামার আগেই ক্লাবের জার্সিতে এমন ধারাবাহিক ও স্মরণীয় পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলল।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে এমএলএসের ইতিহাসে নাম লেখানো কাভান সুলিভানের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলারদের জন্যও অনুপ্রেরণার। বড় ভাইয়ের সঙ্গে একই ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়ার এই রাতটি সুলিভান পরিবারের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
