পানের পিকের দাগে বিবর্ণ হাসপাতাল, পরিচ্ছন্নতা ফেরাতে ব্যতিক্রমী অভিযান হবিগঞ্জে

হাসপাতাল মানেই সুস্থতার প্রত্যাশা। অসুস্থ শরীর নিয়ে মানুষ এখানে আসেন চিকিৎসা নিতে, একটু স্বস্তি খুঁজতে। অথচ সেই হাসপাতালের মেঝে, দেয়াল, সিঁড়ি কিংবা বারান্দায় যদি ছড়িয়ে থাকে পানের পিকের লালচে দাগ, তাহলে চিকিৎসার পরিবেশই হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর। এমন চিত্রই দীর্ঘদিনের বাস্তবতা ছিল হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে। তবে সেই চিত্র বদলাতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। শুধু মেঝে কিংবা দেয়াল পরিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করছে না কর্তৃপক্ষ, বরং হাসপাতালের ভেতরে পান খাওয়া ও যত্রতত্র পানের পিক ফেলার অভ্যাস বন্ধে নেওয়া হয়েছে সরাসরি পদক্ষেপ।
অভিযানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে পান, জর্দা, চুনের কৌটা ও পানের ব্যাগ। পরে সেগুলো হাসপাতালের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে নষ্ট করা হয়।
আটতলা হাসপাতালটিতে প্রতিদিন হবিগঞ্জের নয়টি উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি রোগীদের সঙ্গে থাকেন স্বজনেরাও। এত মানুষের নিয়মিত যাতায়াতে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এমনিতেই বড় চ্যালেঞ্জ।
তার ওপর বিভিন্ন ওয়ার্ড, সিঁড়ি ও বারান্দায় পানের পিক ফেলার কারণে পরিবেশ হয়ে উঠেছিল আরও বিবর্ণ। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড ও সিঁড়িতে ছিল পানের পিকের দাগ। এতে হাসপাতালের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছিল স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসার পরিবেশ।
পরিস্থিতি বদলানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনের পর। সম্প্রতি পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পানের পিকের দৌরাত্ম্য বন্ধে নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ।
এরই অংশ হিসেবে গত ৩ নভেম্বর সকালে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযান চালানো হয়। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মমিন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে রোগী ও স্বজনদের কাছে থাকা পান, পানের ব্যাগ, জর্দা ও চুনের কৌটা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়।
এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা। অভিযানের সময় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের বোঝানো হয়, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পান খাওয়া এবং যেখানে-সেখানে পানের পিক ফেলা শুধু পরিবেশ নোংরা করে না, অন্য রোগীদের জন্যও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
হাসপাতালের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। শনিবার অভিযানসংক্রান্ত একটি ভিডিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে। এরপর ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
অনেকেই এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ডা. মমিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের একটি অংশ পান খেয়ে যত্রতত্র পানের পিক ফেলেন। এতে আটতলা ভবনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড ও সিঁড়ি নোংরা হয়ে পড়েছে। বারবার পরিষ্কার করার পরও একই ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল।

