‘আমি লড়াকু, শেষ দেখে ছাড়ব’ — ক্যান্সারের সঙ্গে নতুন লড়াইয়ে বাটলার

সবুজ গালিচায় তিনি এক নিপুণ কারিগর। তার পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের নারী ফুটবল পেয়েছে একের পর এক সাফল্য। সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের হাত ধরে দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন যিনি, সেই পিটার বাটলার এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই ইংলিশ কোচের শরীরে ধরা পড়েছে ক্যান্সার। তবে মাঠের মতো জীবনযুদ্ধেও হার মানতে নারাজ ৬০ বছর বয়সী এই কোচ। তার বিশ্বাস, লড়াকু মানসিকতা নিয়েই জয় করতে পারবেন কঠিন এই সময়।
গত অক্টোবরের শেষ দিকে অসুস্থ হয়ে ছুটি নিয়ে নিজ দেশ ইংল্যান্ডে ফিরে যান বাটলার। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। কবে নাগাদ তিনি আবার ডাগআউটে ফিরতে পারবেন, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে বাটলার এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। তবে আমার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। আমি একজন লড়াকু মানুষ। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
তবে লড়াইয়ের প্রত্যয় থাকলেও আপাতত শারীরিকভাবে বেশ কঠিন সময় পার করছেন তিনি। বাটলার জানিয়েছেন, সুস্থ হতে এবং চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন তাকে ফুটবলের বাইরে থাকতে হবে।
আগামী ১ ও ৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল। বাটলারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে চট্টগ্রামের কেইপিজেড মাঠে আবাসিক ক্যাম্প করছে দল। গত ৩০ অক্টোবর থেকে সহকারী কোচ আবুল হোসেনের অধীনে চলছে অনুশীলন।
ইংল্যান্ডে অবস্থান করেও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন বাটলার।
তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে আপাতত দলের দায়িত্বে বিকল্প কাউকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এ বিষয়ে বাটলারের অনুমতিও নিয়েছে সংস্থাটি।
বিষয়টি নিয়ে বাটলার বলেন, ‘তারা আমার কাছে অনুমতি চেয়েছিল। আমি বলেছি, কোনো সমস্যা নেই। আমি পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। কে জানে, হয়তো আমি ফিরেও আসব। কারণ, আমি হাল ছাড়ার পাত্র নই।’
এদিকে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের ভূমিকা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই ইংলিশ কোচ। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বাটলারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তাবিথ আউয়ালও।
আগামী ২৯ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। তার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন কোচের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চায় বাফুফে।
এ ক্ষেত্রে ফরাসি কোচ এরিক মেয়ারের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচের সঙ্গে বাফুফের আলোচনা অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে। এর আগে ফ্রান্সের বিভিন্ন আঞ্চলিক ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
