১২ বছর পর ত্রিপোলিতে দূতাবাস ভবন খুলল মিসর, তুরস্ক-লিবিয়া সমুদ্র চুক্তি নিয়ে আপত্তি

মিসর শনিবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে তার ঐতিহাসিক দূতাবাস ভবন আবার খুলেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সফরের সময় ভবনটি পুনরায় চালু করা হয়। এ সময় বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিতর্কিত সমুদ্রসীমা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে লিবিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের আল-বাউর আবদেলাত্তির সঙ্গে যোগ দেন।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বন্দুকধারীরা দূতাবাসের পাঁচ কর্মীকে অপহরণ করার পর মিসর ভবনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০২১ সালের মে মাসে ত্রিপোলিতে মিসরের কূটনৈতিক মিশন আবার কাজ শুরু করে।
কায়রো দীর্ঘদিন ধরে খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। হাফতারের বাহিনী পূর্ব লিবিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে, যেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার রয়েছে।
ত্রিপোলিতে আবদেলাত্তি লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
দুজনে বাণিজ্য সহজ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া পুনর্গঠনে মিসরীয় কোম্পানি ও শ্রমিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন দবেইবা।
আবদেলাত্তি পুনরায় চালু হওয়া দূতাবাসে লিবিয়ার ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে দ্রুত অগ্রগতি এবং রপ্তানির জন্য মিসরে লিবিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের পরিকল্পনার আহ্বান জানান।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রোববার জানায়, লিবিয়ার মন্ত্রী আরও আলোচনার জন্য কায়রো সফর করবেন।
দবেইবার সঙ্গে আলোচনায় আবদেলাত্তি ২০১৯ সালে তুরস্ক ও ত্রিপোলির তৎকালীন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে মিসরের আপত্তির কথা তোলেন। তাঁর মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারণের সময় মিসরের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
মিসরীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজকে দবেইবা বলেন, পরের বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা মানচিত্র ও নিজ নিজ দাবি নিয়ে আলোচনা করবেন।
ওই চুক্তিতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক ও লিবিয়ার সমুদ্র অঞ্চলের মধ্যে সীমারেখা টানা হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি দেশ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের অধিকার দাবি করে। গ্রিস বলেছে, তুরস্ক ও লিবিয়ার উপকূলের মাঝখানে অবস্থিত ক্রিটসহ গ্রিক দ্বীপগুলোর অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে ওই সীমারেখায়। মিসর ও সাইপ্রাসও এ চুক্তির বিরোধিতা করে।
বছরের পর বছর বিরোধিতার পর গত ২০ অক্টোবর লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্ট চুক্তিটি অনুমোদন করে। পরদিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলে, চুক্তিটি অন্যান্য দেশের অধিকার লঙ্ঘন করে এবং তাদের ওপর এর কোনো আইনি প্রভাব থাকতে পারে না।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তিটিকে সমর্থন করে বলেন, এটি 'আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই সম্পূর্ণ বৈধ চুক্তি'।



