সাক্ষীকে ককটেল নিক্ষেপের পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ, নিরাপত্তা দেবে থানা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী এস এম সায়েমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে চলা এই মামলায় সায়েম ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল এই নির্দেশ দেন। এর আগে রোববারই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সায়েমকে জেরা করেন। জেরা শেষে সায়েম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিজের নিরাপত্তা চান।
সায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি মিরপুর অঞ্চলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন। গত ৩ নভেম্বর তিনি সালমান রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনালে সায়েম বলেন, তিনি মিরপুর ২ নম্বরে থাকেন। তাঁর বাসার সামনে এক ব্যক্তি তাঁকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। বাসার সামনে অচেনা ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
সায়েম জানান, একটি ককটেল তাঁর সামনে পড়ে এবং আরেকটি তাঁর থেকে প্রায় ১০ ফুট দূরে পড়ে। ককটেল ফাটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া বাসার সামনে গিয়ে লোকজন তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বিদেশ থেকেও ফোন দিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে।
জেরার এক পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁর মক্কেলরা তো কারাগারেই আছেন। এই সাক্ষী এত দিন সাক্ষ্য দিলেন, তখন কোনো অভিযোগ করলেন না; আজ তাঁর সাক্ষ্য শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুললেন।
এরপর সায়েমের নিরাপত্তা চেয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আদেশ দেন।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের ধারাবাহিক নির্দেশনা ও কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব নির্যাতন বন্ধে তাঁরা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান ও আনিসুল সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাঁদের মধ্যে ফোনালাপ হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।


