পানি নেই মনিরামপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে, ভোগান্তিতে কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের পাঁচতলা ভবনে দিনভর পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা।
আজ রোববার একই সমস্যায় পড়েন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও। ওয়াশরুমে পানি না থাকায় কেউ হাত-মুখ ধুতে পারেননি, কেউ আবার দুপুরের খাবার না খেয়েই বাড়ি চলে গেছেন।
আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ ভবনের পঞ্চম তলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ চলে। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক তথ্য সংগ্রহকারী জানান, দুপুরের বিরতিতে খাবার খাওয়ার আগে হাত-মুখ ধুতে ওয়াশরুমে গিয়ে পানি পাননি। পরে খাবার না খেয়েই বাড়ি চলে যান তিনি।
প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ ভবনে পানির সংকটের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। সকালে প্রশিক্ষণ শুরুর পর বিষয়টি জানতে পারি। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনে আমার দপ্তরের ওয়াশরুম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকালেও পানি না পাওয়া গেলে অন্য স্থানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
উপজেলা পরিষদের পাঁচতলা ভবনে উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন, হিসাবরক্ষণ, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরসহ অন্তত সাতটি দপ্তর রয়েছে। ভবনের প্রতিটি স্তরে পৃথক ওয়াশরুমের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কক্ষেও রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম। কিন্তু পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনটিতে পানির সংকট নতুন নয়। মাঝেমধ্যেই পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে ইউএনও কার্যালয়ে একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, শুধু আজ নয়, গত সপ্তাহেও ওয়াশরুমে পানি পাওয়া যায়নি।
একই দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে টানা চার থেকে পাঁচ দিন পানি পাওয়া যায়নি। তখন অন্য ভবনে গিয়ে প্রয়োজন মেটাতে হয়েছে।’
ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরে পানির সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী এয়াকুব আলী। তিনি বলেন, তাঁর দপ্তরের কর্মীরা নিচ থেকে পানি এনে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। এয়াকুব আলী জানান, ভবনটি চারতলা থাকার সময় পানির সমস্যা ছিল না। পরে একতলা বাড়িয়ে পাঁচতলা করায় ওপরের তলায় পানি তুলতে সমস্যা হচ্ছে। একটি সেচপাম্প দিয়ে বেশি উচ্চতায় পানি তুলতে গিয়ে পাম্পটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে।
মনিরামপুরের ইউএনও সম্রাট হোসেন বলেন, ‘পানির সংকটের কথা জেনে মিস্ত্রি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি পৌরসভার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পানির সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

