ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ডের সাজা ঘোষণা সোমবার

কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণা করবেন।
বৃহস্পতিবার চার সপ্তাহের বিচার শেষে জুরি ব্র্যান্ডকে তিনটি যৌন নিপীড়ন ও একটি ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। রায় ঘোষণার পর বিচারক জোয়েল বেনাথান ব্র্যান্ডকে বলেন, তাঁর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কারাদণ্ড অপেক্ষা করছে।
একসময়ের এমটিভি উপস্থাপক থেকে খ্রিস্টান ও আধ্যাত্মিক প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ব্র্যান্ড সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি কখনও সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক করেননি।
বিচারে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ছয়জন নারীর আনা সাতটি ঐতিহাসিক অভিযোগ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়: ২০০৯ সালে তাঁর একটি কমেডি অনুষ্ঠানে যাওয়া এক নারীকে ধর্ষণ এবং ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে আরও তিনজনকে যৌন নিপীড়ন। নিপীড়নের ঘটনাগুলো ঘটেছিল একটি বার, একটি রেডিও স্টেশন ও একটি টিভি স্টুডিওতে।
অন্যদিকে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ ও একটি শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার রায়ের পর ব্র্যান্ডের আইনজীবী বিচারকের কাছে তাঁর মক্কেলকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান, যাতে তিনি সপ্তাহান্তে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে কাটাতে পারেন। বিচারক সে আবেদন নাকচ করেন। এর পরিবর্তে একসময়ের তারকা প্রিয় এই ব্যক্তি লন্ডনে একটি কারাগারের সেলে তাঁর প্রথম সপ্তাহান্ত কাটান।
রায় ঘোষণার সময় ব্র্যান্ড খুব একটা আবেগ প্রকাশ করেননি। তবে তাঁর স্ত্রী লরা—যিনি পুরো সময় তাঁর পাশে ছিলেন—দ্রুত আদালতকক্ষ ছেড়ে চলে যান।
অনেকে এই রায়কে মি টু আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। এই আন্দোলনে ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীদের নির্যাতন করা প্রভাবশালী পুরুষদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।
অপরাধ বিষয়ক ভাষ্যকার ও বিবিসির সাবেক সংবাদদাতা ড্যানি শ বলেন, যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হলেও গড় সাজা ১০ বছর। ব্র্যান্ডের চার থেকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
লন্ডন পুলিশের গোয়েন্দা অ্যান্ডি ফারফি গত সপ্তাহে গণমাধ্যমকে বলেন, ব্র্যান্ড তাঁর প্রভাব, মর্যাদা ও খ্যাতি ব্যবহার করে নারীদের শিকার করেছেন। তাঁর প্রোফাইল যত বেড়েছে, তাঁর অধিকারের বোধও তত বেড়েছে।
দ্য সানডে টাইমসের সাংবাদিক ক্যামিলা লং লেখেন, সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের ৩ নম্বর আদালতকক্ষে বসে ব্র্যান্ড কীভাবে তাঁর শিকারদের ধরে টেনে, ধাক্কা দিয়ে, স্পর্শ করে ও অপমান করে—তা শোনা তাঁর জীবনের সবচেয়ে জঘন্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল।
ব্র্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রেও অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০২৩ সালে শুধু জেন ডো নামে পরিচিত এক নারী অভিযোগ করেন, ২০১০ সালের কমেডি চলচ্চিত্র আর্থার-এর শুটিংয়ের সময় ফিল্ম এক্সট্রা হিসেবে কাজ করার সময় ব্র্যান্ড তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেন। ওই বছরই ব্র্যান্ড পপ তারকা কেটি পেরিকে বিয়ে করেন, যদিও মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় পর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।




