জান্তার পরিচয়পত্র নিতে আপত্তি থাইল্যান্ডের ২০ লাখের বেশি মিয়ানমার শ্রমিকের

থাইল্যান্ডে কর্মরত ২০ লাখের বেশি মিয়ানমার অভিবাসী শ্রমিক দেশটির জান্তা সরকারের নতুন পরিচয়পত্র নিতে আপত্তি জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তাঁরা জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) কাছে বিকল্প পরিচয়পত্র দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক সপ্তাহ ধরে চলা এক অনলাইন জরিপে শ্রমিকদের এই অবস্থান উঠে এসেছে। ইরাবতীর খবরে জানা যায়, মিয়ানমারের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজ করেন।
এই দফায় তাঁদের অন্তত ৬ লাখ শ্রমিকের জান্তা সরকারের দেওয়া 'সার্টিফিকেট অব আইডেনটিটি' বা সিআই নেওয়ার কথা। গত ১৪ অক্টোবর থাইল্যান্ডে পাঁচটি কেন্দ্রে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা খুবই কম।
পরিচয়পত্র পেতে শ্রমিকদের বেতনের ২৫ শতাংশ জান্তা-নিয়ন্ত্রিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রমাণ দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বার্ষিক আয়ের ২ শতাংশ কর দেওয়ার শর্তও পূরণ করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের আশঙ্কা, তাঁদের উপার্জন জান্তার যুদ্ধের অর্থায়নের জ্বালানি হবে। পরিচয়পত্র গ্রহণের মাধ্যমে সামরিক সরকারকে বৈধতা দেওয়া হবে বলেও তাঁরা মনে করেন।
তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগের ঝুঁকিও রয়েছে।
মিয়ানমারের অভিবাসীদের প্রতিনিধি সমন্বয় কমিটি জান্তার পরিচয়পত্র ছাড়াই থাইল্যান্ডে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ চেয়েছে।
জরিপের ফল এনইউজির শ্রম বিভাগে পাঠানো হবে, যাতে তারা বিকল্প পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। থাই সরকারের কাছেও শ্রমিকদের আবেদন পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে থাইল্যান্ডের বিরোধী আইনপ্রণেতা ও শ্রম অধিকারকর্মীরা পরিচয়পত্র কেন্দ্রগুলো পর্যালোচনা বা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের মতে, নেপিডোর হাতে অভিবাসী নিবন্ধনের নিয়ন্ত্রণ থাকলে থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দেশটির শ্রমমন্ত্রীও বাধ্যতামূলক অর্থ পাঠানোর নীতির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি শ্রমিকদের অধিকারের পরিপন্থী।
জরিপের ফল পাঠানোর পর এখন এনইউজি ও থাই সরকারের সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শ্রমিকেরা।




