মেলবোর্নে কাজের সময় ছুরিকাঘাতে নিহত ডেলিভারি রাইডার, হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে কাজের সময় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন খাবার সরবরাহকর্মী ফেং জিয়ানমিং। শহরের কেন্দ্রস্থলে শুক্রবার রাতে ৪৭ বছর বয়সী এই ডেলিভারি রাইডারকে ছুরি মারা হয়। তাঁর মৃত্যুতে মেলবোর্ন শহর এবং অস্ট্রেলিয়া ও বিদেশের গিগ কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ফেং জিয়ানমিং ও আরেকজন রাইডার শহরের কেন্দ্রে তাঁদের বাইকের সঙ্গে এক ব্যক্তিকে কিছু করতে দেখেন। তাঁরা ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, ৫১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দুই রাইডারকেই ছুরি মারে।
ঘটনাস্থল ছিল ফ্রেডেরিক ওয়ে। জরুরি সেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ফেংকে বাঁচানো যায়নি। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হামলায় আহত অপর রাইডারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই রাইডার গুরুতর আহত অবস্থায় সোমবারও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ফুটস্ক্রের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁকে শনিবার গ্রেপ্তার করে। সোমবার সকালে তাঁর বিরুদ্ধে এক ধারায় হত্যা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। তাঁকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং সোমবার মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তাঁকে হাজির করা হবে।
ফেং জিয়ানমিং চীনের শানসি প্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় নয় বছর ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন। হাঙ্গরিপ্যান্ডার ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ করতেন।
তাঁর স্ত্রী সু, তাঁদের চার বাবা-মা এবং দুই সন্তান দেশে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফেংয়ের মৃত্যুর খবর তাঁর পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে।
সপ্তাহান্তে শোকাহত মানুষ স্টেট লাইব্রেরির কাছে ফুল ও শোকবার্তা রেখে গেছেন। কিছু কার্ডে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। আবার কিছু কার্ডে ক্ষোভও প্রকাশ পেয়েছে—একটিতে লেখা ছিল ‘সিটি অব ক্রিমিনাল’, আরেকটিতে ‘এশিয়ান লাইভস ম্যাটার’।
ফেংয়ের পরিবারকে সাহায্য করতে মেলবোর্ন চায়নাটাউন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন একটি গোফান্ডমি তহবিল খুলেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত তাতে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার উঠেছে। এই অর্থ পরিবারের জরুরি ভ্রমণ ও শেষকৃত্যের খরচে ব্যবহার করা হবে।
খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাঙ্গরিপ্যান্ডা জানিয়েছে, তারা পরিবারকে ভিসার ব্যবস্থা, শেষকৃত্যের খরচ, আর্থিক সহায়তা ও বীমার বিষয়ে সাহায্য করছে।
ফেংয়ের মৃত্যুর খবর মেলবোর্নজুড়ে এবং গিগ কর্মীদের সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। একজন কর্মরত রাইডারের এমন মৃত্যুতে ডেলিভারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন আদালতের মুখোমুখি হবেন, আর শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায় তাঁদের প্রিয়জনকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।




