শেরপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজাদের হামলায় চাচা নিহত
শেরপুর সদর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজাদের হামলায় জিন্নাত আলী (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিন্নাত আলী কাজীরচর গ্রামের মৃত তনু শেখের ছেলে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক গাড়িচালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে জিন্নাত আলীর সঙ্গে তাঁর ভাতিজাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার দুপুরে জমির বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সন্ধ্যায় ভাতিজা জসিম, মাজহার ও নজরুলসহ আরও চার-পাঁচজন জিন্নাত আলীর ওপর হামলা করেন।
হামলার সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্বজনেরা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জিন্নাত আলীর ছেলে বাবু বলেন, জমিজমা নিয়ে গত এক বছর ধরে ঝামেলা চলছিল। তিনি বলেন, আমরা আদালতের মাধ্যমে এই জমির ডিক্রি পেয়েছি। তারপরও তারা জমি দাবি করছে। আজ আমার বাবাকে তারা মেরেছে। আমরা এর বিচার চাই।
জিন্নাত আলীর বন্ধু দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, জিন্নাত আলী আর তিনি একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তিনি বলেন, জিন্নাত আলী অনেক ভালো মানুষ ছিলেন এবং এই জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ছেলেদের সঙ্গে অনেক দিন ধরে ঝামেলা চলছিল। আজ দুপুরে জমির বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় এবং সন্ধ্যায় তাঁরা আক্রমণ করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা পর্যন্ত আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নারীকে আটক করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে মো. জিন্নাত আলী নামে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। পরে ইসিজি করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে চিকিৎসক জানান।


