কারাবাখে বিজয় দিবসে একসঙ্গে এরদোয়ান ও আলিয়েভ, ‘এই ঐক্য চিরকাল থাকবে’

আজারবাইজান রোববার কারাবাখ যুদ্ধের সমাপ্তির ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে বিজয় দিবস পালন করেছে। দেশজুড়ে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানও অংশ নেন, যা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ মিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ খানকেন্দিতে বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্মরণ অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি ২০২০ সালের যুদ্ধে নিহত আজারবাইজানি সেনা ও কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আলিয়েভ বলেন, ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর শুশা মুক্তিই ছিল সংঘাতের নির্ণায়ক মুহূর্ত। ছয় বছর আগের বিজয়ের জন্য তিনি জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘শুশার মুক্তিই কার্যত দ্বিতীয় কারাবাখ যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছিল।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান আলিয়েভের আমন্ত্রণে স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আজারবাইজানে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এমিনে এরদোয়ান। কারাবাখে তাঁদের স্বাগত জানান আলিয়েভ ও ফার্স্ট লেডি মেহরিবান আলিয়েভা।
আঙ্কারা ও বাকুর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কূটনৈতিক মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। তুরস্কের সমাজের ভেতর থেকেও আজারবাইজানের সমালোচনা উঠেছিল। তবু দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে দুই নেতা তাঁদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের স্থিতিস্থাপকতা তুলে ধরার কথা বলেন।
এরদোয়ানকে স্বাগত জানিয়ে আলিয়েভ বলেন, কারাবাখে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি তাঁদের জোটের শক্তির প্রমাণ। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই ঐক্য চিরকাল থাকবে। বিজয় দিবসে আমাদের সঙ্গে আপনার উপস্থিতি গোটা আজারবাইজানি জনগণকে আনন্দ দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে আরও শক্তিশালী, এবং কারাবাখে এরদোয়ানের সফর বিশ্বের সামনে তাঁদের ঐক্য তুলে ধরেছে।
এক্সে এক পোস্টে এরদোয়ান বলেন, ‘ছয় বছর আগে আমার ভাই ইলহামের দৃঢ় নেতৃত্বে আজারবাইজানি জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসাধারণ বীরত্বে কারাবাখের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মহিমান্বিত বিজয় আজারবাইজানের ন্যায়সংগত কারণের সর্বোত্তম প্রকাশ এবং গোটা তুর্কি বিশ্বের জন্য গর্বের উৎস।’
এরদোয়ান আলিয়েভের সঙ্গে তাঁদের বিশেষ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘যারা আজারবাইজান-তুরস্ক ভ্রাতৃত্বকে দুর্বল করতে চায়, তারা কখনো তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।’
সফরের আগে এরদোয়ান জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের সমাজে বাকুর সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক ‘প্রচলিত কূটনৈতিক সম্পর্কের অনেক ঊর্ধ্বে’ বিস্তৃত। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘অটুট বন্ধন’ তাঁদের ‘যৌথ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাগ্য এবং ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতের’ ফসল।
আলিয়েভ এরদোয়ানের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, বিশ্বে আজারবাইজান ও তুরস্কের মতো পরস্পরের সঙ্গে এতটা যুক্ত আর কোনো দুটি দেশ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি বহুবার বলেছি, বিশ্বে আজারবাইজান ও তুরস্কের মতো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত আর কোনো দেশ নেই।’
২০২০ সালে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে ৪৪ দিনের যুদ্ধের সময় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়, যখন তুরস্ক বাকুকে রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন দিয়েছিল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শুশা শহর পুনরুদ্ধারের পর ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়, এবং দুই দিন পর ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুশা দখলের বার্ষিকী এখন প্রতি বছর আজারবাইজানের বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।
২০২০ সালের সংঘাতে তুরস্কের সমর্থনের কথা স্বীকার করে আলিয়েভ সরাসরি এরদোয়ানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘৪৪ দিন ধরে, আমার প্রিয় ভাই, এবং ভ্রাতৃপ্রতিম তুর্কি জনগণ আমাদের পাশে ছিল।’
আজারবাইজান-তুরস্ক জোট ২০২১ সালের ১৫ জুন আনুষ্ঠানিক রূপ পায়, যখন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে শুশা ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়।
ছয় বছর পর দক্ষিণ ককেশাস অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পুনর্গঠন ও আঞ্চলিক কূটনীতি নিয়ে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। গত কয়েক দশকে তুরস্ক ও আজারবাইজানের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে, এবং প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও পরিবহনে তাঁদের সহযোগিতা দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের বাজারের মধ্যে সংযোগ জোরদার করেছে। আজারবাইজানি প্রাকৃতিক গ্যাস তুরস্ক হয়ে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়া দক্ষিণ গ্যাস করিডোর ইউরোপের দেশগুলো রুশ গ্যাস থেকে সরে আসার চেষ্টা করায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



