রসস্ট্যাট হ্যাকের দাবি: ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ নিহত তিন লাখ ৯৩ হাজারের বেশি

হ্যাকার গোষ্ঠী কিবেরপার্তিজানি বিওয়াই ও সাইলেন্ট ক্রো রাশিয়ার ফেডারেল স্টেট স্ট্যাটিসটিকস সার্ভিস রসস্ট্যাটে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৩ টেরাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নথি, জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য।
চুরি যাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোষ্ঠী দুটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা নিজেরা হিসাব করেছে।
কিবেরপার্তিজানি বিওয়াইয়ের হিসাবে, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধে কমপক্ষে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮১ জন রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন। সাইলেন্ট ক্রো আরও বেশি সংখ্যা দিয়েছে—৪ লাখ ৫০ হাজার ১০০ জন।
দুটি অনুমানের মধ্যে এই উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কারণ ক্ষয়ক্ষতি গণনার পদ্ধতির ভিন্নতা। কিবেরপার্তিজানি বিওয়াই শুধু সেই মৃত্যুগুলো গণনা করেছে, যেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সামরিক অভিযান বা তার পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাইলেন্ট ক্রো যুদ্ধে নিহতদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি শ্রেণির মৃত্যু যোগ করেছে: সামরিক কর্মীদের মধ্যে যুদ্ধ-বহির্ভূত ক্ষয়ক্ষতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত মৃত্যু এবং রাশিয়ায় নিবন্ধিত কিন্তু দখলকৃত অঞ্চল বা ইউক্রেনে মারা যাওয়া—যেখানে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি—এমন ব্যক্তিদের মৃত্যু।
এই সংখ্যাগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়া ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া ২০২৪ সাল থেকে রসস্ট্যাট মৃত্যুর কারণের বার্ষিক তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে, যা যুদ্ধের জনসংখ্যাগত প্রভাব স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যানগত উপাদানের নাগাল পাওয়া গেলে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
তুলনার জন্য, ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিবিসি নিউজ রুশ সার্ভিস ও মিডিয়াজোনার যৌথ তথ্যভান্ডারে নাম ধরে শনাক্ত করা নিহত রুশ সেনাদের তালিকায় প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার নাম ছিল। তবে এই তালিকাটি অসম্পূর্ণ বলে জানা যায়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোর ক্ষেত্রে।
উত্তরাধিকার রেজিস্ট্রির তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মেদুজা ও মিডিয়াজোনার যৌথ গবেষণায় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নিহত রুশ সেনার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বলে অনুমান করা হয়েছিল।
এভাবে হ্যাকারদের অনুমান আগের প্রকাশিত স্বাধীন গবেষণার সংখ্যার সঙ্গে মিলে যায়, যদিও তা প্রতিটি সংখ্যার নির্ভুলতা এখনো প্রমাণ করে না।
মেদুজা ও মিডিয়াজোনা বলেছে, তারা হ্যাকারদের প্রকাশ করা তথ্য পেয়েছে এবং তা যাচাই শুরু করেছে। সাংবাদিকদের লক্ষ্য শুধু উপাদানগুলো আসল কি না তা নির্ধারণ করা নয়, সেগুলো কতটা সম্পূর্ণ তাও যাচাই করা। বিশেষ করে, ইচ্ছাকৃত তথ্য জালিয়াতির সম্ভাবনা তাঁদের উড়িয়ে দিতে হবে।
এ ছাড়া চিকিৎসা নথিতে দেওয়া মৃত্যুর কারণ সব সময় মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না। আরও লক্ষণীয়, রসস্ট্যাটের অভ্যন্তরীণ তথ্যভান্ডারে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তথ্য নেই। দীর্ঘ সময় পর তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। তাই রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য দিয়েও রুশ সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত সংখ্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে না।
তথ্যের সত্যতা ও সম্পূর্ণতা নিশ্চিত হলে এ উপাদানগুলো রাশিয়ার জন্য যুদ্ধের জনসংখ্যাগত পরিণতি সম্পর্কে তথ্যের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।



