আমস্টারডামে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ বিক্ষোভে দুই লাখের বেশি মানুষ
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের দাবিতে দুই লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। আয়োজকদের অন্যতম অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডাচ শাখার তথ্য অনুযায়ী, রোববারের 'রেড লাইন' বিক্ষোভে এত মানুষ অংশ নেন।
লাল পোশাক পরা বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের ওপর কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং সব অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানান।
বিশাল মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে মাইক ভ্যান ডঙ্গেন বলেন, 'সেখানে যা ঘটছে, তা অমানবিক।' তিনি বলেন, 'আমার মতে, (ডাচ কর্তৃপক্ষ) কিছুই করছে না। তারা কোনো গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পায় না।'
রোববার যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া আমস্টারডামের একটি ব্যস্ত রাস্তা ধরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করার সময় এক ব্যক্তি বাসস্টপে দাঁড়িয়ে লাউডস্পিকারে 'ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন!' বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক মিছিলকারীও সেই স্লোগানে গলা মেলান।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের যুদ্ধে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২১ হাজার শিশু।
রোববারের বিক্ষোভটি গত বছরের অক্টোবরের প্রথম দিকের একই ধরনের বিক্ষোভের মতো ছিল। এর আগে গত জুনে হেগের রাস্তায় 'রেড লাইন' বিক্ষোভে মিছিল করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
গত বছর ১০ অক্টোবর গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে তার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা ও হত্যাকাণ্ড চলেছে।
গাজার যুদ্ধ নেদারল্যান্ডস ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। গত বছর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।
এরপর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা নতুন সংখ্যালঘু জোট সরকার ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ডাচ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশির ভাগই ওই বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন গত বছর একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন, তবে রোববার তিনি উপস্থিত ছিলেন না। শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, 'প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি সপ্তাহে আমরা ভয়াবহ পরিস্থিতি লাঘবে যা পারি, তা করছি।' তিনি আরও বলেন, তাঁর প্রশাসন গাজার বিষয়ে চুক্তি মেনে চলতে ইসরায়েলের ওপর 'আরও বেশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ' প্রয়োগ করছে।




