গভীর রাতেও থামেনি ককটেল আতঙ্ক: ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন ও খিলক্ষেত থানার সামনে বিস্ফোরণ
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতা গভীর রাতেও থামেনি। রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। একই রাতে খিলক্ষেত থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
এই বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি জয়নাল আবেদীন।
এর আগে রাত ১১টার দিকে খিলক্ষেত থানার ফটকের সামনে বিকট শব্দে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খিলক্ষেত থানা ও রেডিসন হোটেলের সামনে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। থানার ডিউটি অফিসার এসআই সোহেল আহমেদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
এই দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজধানীতে এক সন্ধ্যায় ও রাতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ধারা অব্যাহত থাকল। এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে, পল্লবী থানা ও মিরপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
শুধু ককটেল বিস্ফোরণ নয়, গত ৬ ও ৭ নভেম্বর দুর্বৃত্তরা ঢাকা ও আন্তজেলা রুটের ছয়টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা।
এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের কাছে রোববার চিঠি দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীরা ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলকারী গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একটি সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয়ে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে পুলিশ।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার পেছনে নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য দেখছে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেছেন, ওই গ্রুপ নাশকতার উদ্দেশ্যে ও জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে কাজগুলো করছে। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও একটি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা রয়েছেন।

