গ্যাস সংকটে উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় আবার বন্ধ যমুনা সার কারখানা
গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সারিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাস প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রোববার ভোর পাঁচটা থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে। কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে উৎপাদন শুরু হয়।
এরপর ৭ অক্টোবর কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেল যমুনা সার কারখানা।
কারখানাটির আগের ইতিহাসও একই ধারার: গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ ছিল এটি। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কারখানায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে করে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে বলে কারখানা সূত্রে জানা গেছে।
যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে।
স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে কারখানাটি সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয় এবং এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়াও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সার সংকট দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।



