রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ: প্রতিদিন উঠছে ৫০ মণ ফল
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান। প্রায় দুই একর জমির এই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে প্রায় চার হাজার ড্রাগন গাছ, আর ভরা মৌসুমে বাগানটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ মণ (২ হাজার কেজি) ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বাগান মালিক ও কর্মচারীদের হিসাবে, প্রতিটি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ফল ধরেছে। স্থানীয় পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।
এই বাগানের ফল শুধু স্থানীয় বাজারে যাচ্ছে না। রাজবাড়ীর ড্রাগন এখন সরবরাহ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, কুষ্টিয়া এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় পাইকারি বাজারে। তাজা ফল কিনতে স্থানীয় ক্রেতা ও পাইকাররা প্রতিদিন বাগান প্রাঙ্গণেই ভিড় জমাচ্ছেন।
বাগানের ম্যানেজার জমাদি উল আলম বলেন, ‘এখানকার মাটির উর্বরতা ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা প্রথম থেকেই নিয়ম মেনে সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সময়ে সেচ প্রদান এবং আধুনিক উপায়ে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করেছি। নিয়মিত যত্ন ও কঠোর তদারকির ফলেই এবার গাছে আশাতীত ফলন এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, তাঁরা কেবল ফলনের পরিমাণের দিকেই নজর দিচ্ছেন না; রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও মানসম্মত ড্রাগন ফল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য দেশের মানুষের হাতে পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফল পৌঁছে দেওয়া।
বাগান থেকে সরাসরি ফল কিনতে আসা বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজার থেকে ফল কিনলে অনেক সময় বাসি বা কেমিক্যালযুক্ত হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু এই বাগানে এসে একদম গাছ থেকে নিজেদের সামনে তাজা ড্রাগন পেড়ে কিনতে পারছি। এখানকার ফলগুলো বেশ বড়, মিষ্টি ও রসালো।’
ফরিদপুর থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ীর এই বাগানের ড্রাগন ফলের সাইজ ও গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। বাজারে এই এলাকার ড্রাগন ফলের চাহিদা খুব বেশি। তাই আমি নিয়মিত এখান থেকেই পাইকারি দরে ফল কিনে ফরিদপুরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করি।’
রাজবাড়ী সদর শহর থেকে পরিবার নিয়ে বাগানে আসা ক্রেতা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, সারিবদ্ধ গাছে ঝুলন্ত ড্রাগন ফল দেখতে দারুণ লাগে; তাঁরা ছুটির দিনে ঘুরে যেমন আনন্দ পেয়েছেন, তেমনই ভেজাল ছাড়া গাছপাকা ফল কিনে ঘরে ফিরছেন।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের গাছের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও আধুনিক পরিচর্যার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাক খান বলেন, ‘ড্রাগন চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার ব্যবহার এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক পরামর্শের ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেছেন, কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিয়মিত তদারকিতে রাজবাড়ী জেলা দ্রুত ড্রাগন উৎপাদনে একটি ‘মডেল জেলা’য় পরিণত হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসেন।



