সিইসির পদত্যাগ দাবিতে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশের ডাক ‘ইনডিয়া’ জোটের
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিজেপিবিরোধী ২৮টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইনডিয়া’।
জোটটি ওই কর্মসূচিতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছে বলে সমাবেশের ঘোষণায় জানানো হয়েছে।
ইনডিয়া জোটের প্রধান শরিক কংগ্রেসের হরিয়ানা রাজ্য শাখার সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং এবং সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দত্তের বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই।
হরিয়ানা কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা পিটিআইকে বলেছেন, ভোটার তালিকার শুদ্ধতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা করা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য এবং এ বিষয়ে কংগ্রেস কোনো আপস করবে না।
তাঁদের দাবি, কংগ্রেস ও বিরোধী জোট ইনডিয়ার দেশব্যাপী ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি এখন এক নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং হরিয়ানার প্রতিটি জেলা, ব্লক, গ্রাম ও ভোটগ্রহণ কেন্দ্র পর্যন্ত এই কর্মসূচি পৌঁছে দিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
রাও নরেন্দ্র সিং ও সঞ্জয় দত্ত জানান, দলের কর্মীদের ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য গরমিলগুলো নথিবদ্ধ করতে, যোগ্য ভোটারদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াতে এবং ১ নভেম্বরের সমাবেশে হরিয়ানা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশকে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে; নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিতে অনিয়ম এবং ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস জানিয়েছে, যেটিকে তারা ‘ভোট চুরি’ বলে অভিহিত করছে, তার প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশ গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার ক্ষেত্রে ঐক্যের বার্তা দেবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সঞ্জয় দত্ত বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব; যোগ্য নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যেসব গরমিলের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সঞ্জয় দত্ত ও রাও নরেন্দ্র সিং বলেন, কংগ্রেস মনে করে জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর যথাযথ সমাধান সম্ভব নয়, তাই তাঁকে অপসারণ করা জরুরি; তদন্তে তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করা বা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সাব্যস্ত হলে তাঁকে গ্রেপ্তারসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও তাঁরা বলেন।
পিটিআইকে সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘ভোটাধিকার হলো গণতন্ত্রের ভিত্তি। প্রতিটি নাগরিকের ভোট রক্ষা করা মানেই হলো সংবিধান ও জনগণের রায়কে রক্ষা করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সেই সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য—যার মাধ্যমে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের সরকার বেছে নিতে পারেন।’

