ইসরায়েলের ভোটে নেতানিয়াহুর জোটের চাবিকাঠি হতে পারেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভির

ইসরায়েলে মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনের আগে জরিপে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল ওৎজমা ইয়েহুদিত ১২০ আসনের নেসেটে সাত থেকে দশটি আসন পেতে পারে।
সেই ফল এলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ দলের নেতৃত্বে কোনো ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেন-গভিরের সমর্থন অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে এবং তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পেতে পারেন বলে জরিপের তথ্যে বলা হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী হিসেবে বেন-গভির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়টি দেখেন; এর আওতায় রয়েছে ইসরায়েল পুলিশ, ইসরায়েল কারাগার পরিষেবা এবং বেসামরিক আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান।
ওৎজমা ইয়েহুদিতের প্রার্থী তালিকায় ১২ নম্বরে থাকা এবং হেবরনের ইহুদি সম্প্রদায়ের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র ইশাই ফ্লাইশার বলেন, ‘আমি সব সময় বলি, মন্ত্রী বেন-গভির আমেরিকায় থাকলে তাঁকে শুধু একজন টেক্সান বলা হতো।’ তাঁর ব্যাখ্যায় এর অর্থ আইনশৃঙ্খলা, খুনিদের মৃত্যুদণ্ড, কারাগারে জিহাদিদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ ইহুদি নাগরিকদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রের অধিকার।
ফ্লাইশার আরও বলেন, গণ-অভিবাসন ইউরোপের কিছু অংশে ইসলামপন্থী চরমপন্থা ও অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং ইসরায়েলিরা তেল আবিবে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখতে চান না; এই প্রেক্ষাপটেই ‘আইনশৃঙ্খলা’ ও ‘অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর’ প্রার্থীদের দিকে ভোটাররা ঝুঁকছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আয়ালন বলেন, বেন-গভিরের বক্তব্য গোটা বিশ্বকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং দেশটিকে বর্ণবাদী ও একঘরে রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছে।
আয়ালনের মতে, বেন-গভিরের মেয়াদে ইসরায়েল অভ্যন্তরীণভাবে কম নিরাপদ হয়েছে, কারণ অপরাধ বাড়ছে; গত নির্বাচনে অনেক তরুণ ভোটার নেগেভ ও গালিলের মতো এলাকায় শাসন ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আশায় তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন।
ফ্লাইশারের বর্ণনায়, বেন-গভির অল্প বয়স থেকেই সক্রিয় ছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে অসলো প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছিলেন এবং সে সময় বহুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ও আদালতের মুখোমুখি হয়েছিলেন; তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আহারন বারাক একবার তাঁকে আইন পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
আইন পড়া বেন-গভির ২০২১ সালে প্রথম নেসেটে নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী নিয়োগ করেন।
২০০৭ সালে বেন-গভির একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন ও বর্ণবাদে উসকানি দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন; তাঁর প্রচারশিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি ছিল প্রয়াত রাব্বি মেইর কাহানের একটি স্টিকার প্রদর্শন নিয়ে—কাহানের কাচ দল ১৯৯৪ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল—এবং বেন-গভির বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি সেই অবস্থান থেকে পরিণত হয়েছেন ও সরে এসেছেন।
১৫ অক্টোবর বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হিব্রু গণমাধ্যম প্রতিবেদন শেয়ার করেন, যেখানে নেতানিয়াহুকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল তিনি আর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী থাকবেন না; জবাবে বেন-গভির লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, কেবল জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। বেন-গভির শক্তিশালী, ইসরায়েল শক্তিশালী!’
গত বুধবার নেতানিয়াহুর লিকুদ দল তার অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে অবস্থান বদলে জানায়, বেন-গভির সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং পরবর্তী সরকারেও থাকবেন—শর্ত হলো বাম ও আরব দলগুলোর জোট যেন জয়ী না হয়।
তবে আয়ালন বলেন, নেতানিয়াহু চাইলে বেন-গভিরকে বাদ দিয়ে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশারের মতো বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট করেও সরকার গড়তে পারেন; তাঁর ভাষায়, ‘নেতানিয়াহু তাঁকে রেখেছিলেন কারণ তা তাঁর জন্য সুবিধাজনক ছিল। পারলে তিনি এক মিনিটে তাঁকে সরিয়ে দিতেন।’

