ভ্যাপিংয়ে কণ্ঠ বদলে গেছে সেলেনা গোমেজের, চিকিৎসকেরা বলছেন ঝুঁকি আরও গভীরে

গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ তাঁর লাখ লাখ অনুসারীর কাছে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নিকোটিন ভ্যাপিংয়ে তাঁর কণ্ঠে লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। এই অভ্যাসকে তিনি ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রতিদিন ই-সিগারেট ব্যবহার করা লাখ লাখ আমেরিকানের আরও বড় স্বাস্থ্য সমস্যার একটি দৃশ্যমান লক্ষণ মাত্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-সিগারেট প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি ঘন মাত্রার নিকোটিন সরবরাহ করতে পারে, যা দ্রুত মস্তিষ্কে রাসায়নিক নির্ভরতা তৈরি করে। নিউ মেক্সিকোর রিনিউ হেলথের প্রধান নির্বাহী ও নার্স প্র্যাকটিশনার ট্রেন্ট কার্টার এর আগে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, “ই-সিগারেট ও ভ্যাপিংয়ে খুব বেশি মাত্রার নিকোটিন পাওয়া যায়, আর তা সরাসরি আসক্তি এবং এই অভ্যাস ভাঙা কতটা কঠিন, তার সঙ্গে সম্পর্কিত।”
কার্টার বলেন, প্রচলিত ধোঁয়া ছাড়া বেশি নিকোটিন নেওয়ার নিজস্ব স্বাস্থ্যগত পরিণতি আছে। তাঁর ভাষায়, “এটি ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ বৃদ্ধি করতে পারে, আর অন্তর্নিহিত হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে নানা সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ই-সিগারেট থেকে তৈরি অ্যারোসলে সূক্ষ্ম রাসায়নিক কণা, নিকেল ও সিসার মতো ভারী ধাতু এবং জৈব যৌগ থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব উত্তেজক পদার্থ শ্বাস নিলে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালির প্রদাহ, ফুসফুসের টিস্যুর অপরিবর্তনীয় ক্ষত এবং শ্বাসরোধী ফুসফুসের রোগ তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
চিকিৎসকদের বড় উদ্বেগের একটি জায়গা ই-লিকুইডের রাসায়নিক গঠন। নিকোটিনমুক্ত ফর্মুলাতেও ফ্লেভারিং এবং প্রোপিলিন গ্লাইকল ও ভেজিটেবল গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক থাকে। যন্ত্রের কয়েলের তাপে এসব তরল ভেঙে ফরমালডিহাইড ও অ্যাক্রোলিনের মতো বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়, যেগুলো শ্বাসতন্ত্রের কোষের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে চিকিৎসকেরা বলছেন।
আধুনিক ই-সিগারেট মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময় ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো স্পষ্ট নয়, চিকিৎসকেরা জোর দিয়ে বলছেন। তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে কণ্ঠ ভেঙে যাওয়া, কাশি বা খেলাধুলার সক্ষমতা কমে যাওয়া দেখা দিতে পারে, তবে বড় প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
ভ্যাপিং ছাড়তে চাওয়া অনেকের ক্ষেত্রে নিকোটিন প্যাচ বা গামের মতো প্রচলিত উপায় যথেষ্ট হয় না, কারণ এগুলো মানসিক অভ্যাসের দিকটি সামলায় না। কার্টার বলেন, “প্যাচ বা গাম শারীরিক চাহিদায় সাহায্য করতে পারলেও আচরণগত দিকটি না সামলালে একটি বড় অংশ বাদ থেকে যায়।” তিনি আরও বলেন, ভ্যাপিং সারা দিন ধরে চলতে পারে এবং মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারে না কত ঘন ঘন সে এটি ব্যবহার করছে।
গোমেজের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা নিকোটিন নেওয়ার আরেকটি পদ্ধতিতে চলে না গিয়ে ব্যাপক সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কার্টার বলেন, “লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় নিকোটিন নেওয়ার আরেকটি উপায় খোঁজা, লক্ষ্য হওয়া উচিত নির্ভরতাটিরই চিকিৎসা করা।”




