সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের শ্যালক ও তাঁর স্ত্রীর নামে ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, দুদকের দুই মামলায় আসামি মনিরুল দম্পতিও

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে মোট প্রায় ৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শাহীনের নামে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকা এবং টুম্পার নামে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকা।
বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ সম্পদের সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধানকারী দল। এ কারণে মনিরুল দম্পতিসহ শ্যালক ও তাঁর স্ত্রীকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মামলা দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেন।
দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই হিসাবগুলোতে একই সময়ে ৫২৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৮ টাকা জমা হয় এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়। দুদকের অভিযোগ, ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে শাহীন এসব সম্পদ অর্জন ও লেনদেন করেছেন।
এ ঘটনায় শাহীনের বোন সায়লা ফারজানা এবং তাঁর স্বামী সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামকেও আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সায়লা ফারজানা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।
অন্যদিকে, টুম্পার ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, স্বামী শাহীন, তাঁর বোন সায়লা ফারজানা ও ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলামের ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে টুম্পার নামে সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেন করা হয়েছে। এ মামলায় টুম্পা, শাহীন, সায়লা ফারজানা ও মনিরুল ইসলামকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।




