তাকের দামে যা লেখা, ক্যাশ কাউন্টারে তার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগে ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা এফটিসি ও ২০ রাজ্যের

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ডলার-স্টোর চেইন ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ও ২০টি রাজ্য। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের কাছ থেকে তাকে, দামের ট্যাগে ও বিজ্ঞাপনে দেখানো দামের চেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বেশি টাকা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ২০ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে।
মামলাটি করা হয়েছে ন্যাশভিলের একটি ফেডারেল আদালতে। মামলার নথিতে গত ডিসেম্বরে দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; সেই তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগের একটি বড় অংশ দাঁড়িয়ে আছে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
৯৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘ডলার জেনারেল বছরের পর বছর ধরে এমন প্রতারণামূলক আচরণ করে আসছে, যা সেই ক্রেতাদেরই ক্ষতি করছে, যাদের সেবা দেওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠানটি করে।’
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সুবিধা, কম দাম ও মূল্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে তাক, দামের ট্যাগ ও বিজ্ঞাপনে থাকা দামের চেয়ে রেজিস্টারে বেশি টাকা নিয়েছে। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, ভুল দামের এই ধরন বছরের পর বছর ধরে চলছে এবং তা দেশজুড়ে লাখ লাখ কেনাকাটাকে প্রভাবিত করছে। মামলায় খুচরা চেইনটির ‘দাম-সংক্রান্ত অনিয়মের’ পরিধিকে ‘বিস্ময়কর’ বলা হয়েছে।
এফটিসি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেই ফেডারেল সংস্থা, যার কাজ ক্রেতাদের প্রতারণামূলক, অন্যায্য ও প্রতিযোগিতাবিরোধী ব্যবসায়িক আচরণ থেকে রক্ষা করা। এই মামলায় বাদী হিসেবে যোগ দিয়েছে মিসিসিপি থেকে ওহাইও, নেব্রাস্কা ও ইউটাসহ বিভিন্ন রাজ্যের কর্তৃপক্ষ।
এই প্রতিবেদনের জন্য করা প্রশ্নের কোনো জবাব ডলার জেনারেল দেয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি আগে বলেছিল, দোকানে কেনা পণ্যের সঠিক দাম নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গার্ডিয়ানের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের অনুসন্ধানে পাওয়া গিয়েছিল, তিন বছরের ব্যবধানে ২৩টি রাজ্যে সরকারি দাম-যাচাই পরিদর্শনে ডলার জেনারেলের দোকানগুলো ৪ হাজার ৩০০ বারের বেশি ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনটি প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ‘উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও বিতর্কের’ বিষয় ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, রেজিস্টারের দাম ও তাকের দাম মেলানোর জন্য ডলার জেনারেলের নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে; যেমন সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরোনো লেবেল সরিয়ে নতুন লেবেল লাগানোর নির্দেশনা। তবে কর্মীরা গার্ডিয়ানকে বলেছেন, লোকবল কম থাকায় তারা প্রায়ই এত ব্যস্ত থাকেন যে সেসব লেবেল বদলানোর সময় পান না।
মামলায় বলা হয়েছে, ডলার জেনারেলের ‘কাগজে-কলমে থাকা দাম হালনাগাদের নীতিমালা বাস্তবে খুব কমই কাজে আসে’, কারণ ছাপানো লেবেলগুলো আসলে তাকে লাগানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা ওই নীতিমালায় নেই।
এফটিসি মামলায় লুইজিয়ানার একজন লিড সেলস অ্যাসোসিয়েটের গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়েছে। ওই কর্মী বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে আমি ট্যাগ ফেলে দিতাম, যাতে আমি বা কোনো সহকর্মী ঝামেলায় না পড়ি।’
২০২৫ সালে ডলার জেনারেল গার্ডিয়ানকে বলেছিল, সঠিক তাক-দাম নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা ‘হতাশ’ হয়। ওহাইওর আদালতের নথিতে প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, কোনো খুচরা বিক্রেতার পক্ষে সব পণ্যের ক্ষেত্রে তাকের দাম ও স্ক্যান করা দাম শতভাগ মেলানো ‘কার্যত অসম্ভব’; তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে নিখুঁত হওয়া বাস্তবসম্মতও নয়, আইনেও প্রত্যাশিত নয়।
এফটিসির মামলার সঙ্গে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ডলার জেনারেল নিজেকে অন্য দোকানের কম খরচের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে এবং কম ও নির্দিষ্ট আয়ের ক্রেতারা এর দামের লেবেলের সঠিকতার ওপর নির্ভর করেন। এফটিসির ব্যুরো অব কনজিউমার প্রোটেকশনের পরিচালক ক্রিস্টোফার মুফারিজ বলেছেন, ‘ডলার জেনারেল লাখ লাখ মার্কিন ক্রেতার আস্থা ভেঙেছে এবং যেসব গোষ্ঠী ও ক্রেতা এমনিতেই বেতনের টাকায় মাস চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি চাপিয়ে দিয়েছে।’
আলাদা আরেকটি মামলায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে বারবার ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ডলার জেনারেল ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি সমঝোতায় রাজি হয়েছে।




