শ্যামনগরে ৭৪ লাখ টাকায় খনন করা জেলিয়াখালী খাল দুই মাসেই দখলে, দুই হাজার বিঘায় বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কা

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা জেলিয়াখালী সরকারি খালের সুফল মিলছে না। খননের মাত্র দুই মাসের মাথায় নেট-পাটা দিয়ে খালটি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, খাবার পানির চাহিদা পূরণ ও কৃষিকাজের সুবিধার্থে ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ জেলিয়াখালী সরকারি খাল পুনঃখনন করে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। খালটি এলাকাবাসীর একমাত্র পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
খালপাড়ের বাসিন্দা স্থানীয় কৃষক সুকুমার অভিযোগ করেছেন, খালের বিভিন্ন স্থানে নেট-পাটা ও বাঁশের বাঁধ দিয়ে সাতটি ভাগে ভাগ করে কৃত্রিমভাবে মাছ চাষ শুরু করেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। জনস্বার্থে খনন করা খালের পানি ব্যবহার করতে না পারায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিতে।
অপর বাসিন্দা জয়ন্ত সরকার জানান, সেচের পানির সংকটে খালের দুই পাড়ের প্রায় দুই হাজার বিঘারও বেশি জমিতে বোরো চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইছাক আলীসহ অন্যরা। তাঁদের দাবি, এতে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
শ্যামনগরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএসের সাইড অফিসার তৌহিদ হাসান জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যথাযথ অনুমতি নিয়েই ঐতিহ্যবাহী জেলিয়াখালী সরকারি খালটি পুনঃখনন করা হয়েছিল। খননের পর থেকে খালটি দখলে চলে গেছে বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, খালটিকে উন্মুক্ত ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



