ব্যাংক কর বাড়লেও সদর দপ্তর লন্ডন থেকে সরানোর কোনো চাপ নেই: এইচএসবিসির আর্থিক প্রধান পাম কাউর

ব্রিটেনে ব্যাংক কর বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সদর দপ্তর যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো চাপ নেই বলে জানিয়েছেন এইচএসবিসির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পাম কাউর। বুধবারের বাজেটে কর বাড়তে পারে—এমন জল্পনা নাকচ করে দিতেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার এইচএসবিসি জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের মুনাফা ৩২ শতাংশ বেড়ে ৯৬০ কোটি ডলারে (৭২০ কোটি পাউন্ড) দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি লভ্যাংশ ও শেয়ার বাইব্যাকের মাধ্যমে শেয়ারধারীদের ২৭০ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটির নিট সুদ আয় তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ৯৩০ কোটি ডলার হয়েছে, যা এক বছর আগের একই প্রান্তিকে ছিল ৮৮০ কোটি ডলার। হংকংয়ে আমানত বৃদ্ধি ও হেজিং কৌশলের ফলে এই আয় বেড়েছে; যুক্তরাজ্যে আমানত স্থিতিশীল ছিল।
চ্যান্সেলর জন হিলি বুধবারের বাজেটে ব্রিটেনের ব্যাংকগুলোর ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করছেন বলে চলতি মাসের শুরুতে জানা গেছে। তিনি আগের কনজারভেটিভ সরকারের ব্যাংক সারচার্জ কমানোর সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লবি গ্রুপগুলো কয়েক মাস ধরে সতর্ক করে আসছে, করের বিল বাড়লে ব্যাংকগুলো ব্যবসা ও চাকরি প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে নিতে পারে। জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন এমনকি বলেছেন, ব্রিটেন ব্যাংকগুলোর প্রতি ‘বৈরী’ হয়ে উঠলে তিনি লন্ডনে ৩০০ কোটি পাউন্ডের নতুন সদর দপ্তরের পরিকল্পনা বাতিলও করতে পারেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মিডিয়া কলে পাম কাউর বলেন, ‘কর নিয়ে যা-ই হোক, আমরা আমাদের গ্রাহকদের পাশে থাকতে এসেছি, এবং সেটাই আমরা করব। আমরা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেই খুব স্বস্তিতে আছি এবং যুক্তরাজ্যেই থাকছি। সুতরাং এই প্রশ্নটি আলোচনাতেই নেই।’
মুনাফা বাড়লেও মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের বাজারে এইচএসবিসির শেয়ারের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পড়ে যায়। কাউরের ধারণা, বিনিয়োগকারীরা হয়তো নিট সুদ আয়ের আরও শক্তিশালী পূর্বাভাস আশা করেছিলেন।
পূর্ব এশিয়ায় এইচএসবিসির শক্তিশালী শেয়ারধারী ভিত্তি রয়েছে এবং সেখানেই ব্যাংকটি মুনাফার বড় অংশ অর্জন করে। এর আগেও যুক্তরাজ্যের নীতির প্রতিক্রিয়ায় দুইবার ব্যাংকটিকে কার্যক্রম সরানো বা ভাগ করার চাপের মুখে পড়তে হয়েছে—২০১৫ সালে নিয়ন্ত্রক বোঝা ও নতুন ব্যাংক লেভির কারণে সদর দপ্তর হংকংয়ে সরানোর কথা ভেবেছিল ব্যাংকটি, আর ২০২২ সালে লাভজনক এশীয় ব্যবসা আলাদা করার চাপ তৈরি হয়েছিল।
ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক পল নোয়াক বলেছেন, এই ফলাফল থেকেই স্পষ্ট, ব্যাংকগুলো আরও কর দেওয়ার সামর্থ্য স্বচ্ছন্দে রাখে। নিউ ইকোনমিকস ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ অভিজয় সুদ বলেছেন, বন্ধকের বাড়তি খরচে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য এই শক্তিশালী মুনাফার খবর হজম করা কঠিন হবে।



