ফ্রান্সে অনথিভুক্ত কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাবে ভোট জাতীয় পরিষদে, তিন থেকে চার লাখ মানুষের কথা বলছে সমাজতান্ত্রিক দল
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের আইনপ্রণেতারা সমাজতান্ত্রিক দলের (সোশ্যালিস্ট পার্টি) একটি প্রস্তাবে ভোট দেবেন, যাতে ফ্রান্সে কর্মরত আনুমানিক তিন থেকে চার লাখ অননুমোদিত অভিবাসীকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবটি এনেছেন সমাজতান্ত্রিক আইনপ্রণেতা পল ক্রিস্তোফল। তিনি স্পেনের পেদ্রো সানচেসের প্রশংসা করে বলেছেন, সানচেস অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ চেষ্টার বদলে ‘বিদেশি নাগরিকদের বসবাস ও কাজের আইনি উপায় দেওয়ার’ পথ বেছে নিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে স্পেন প্রায় পাঁচ লাখ অননুমোদিত অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়, যাঁরা অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে পারবেন, কর্মসংস্থান বা পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে পারবেন এবং যাঁদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
ক্রিস্তোফল ফ্রান্সে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে যথাযথ নথি ছাড়া কর্মরত আনুমানিক তিন থেকে চার লাখ মানুষকে আইনি মর্যাদা দিতে চান।
মধ্য-বাম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রাফায়েল গ্লুকসম্যান এই পদক্ষেপকে সমর্থন দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্লুকসম্যান এর আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে এমন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
বিলটি ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে বামপন্থী আইনপ্রণেতাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে, তবে মধ্য-ডান ও চরম ডানপন্থীদের বিরোধিতার কারণে এটি সম্ভবত পাস হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্লুকসম্যানের প্রচারণা দল আশা করছে, এই প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁকে সমর্থনকারী আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ২০২২ সালে তাঁকে ভোট দেওয়া ভোটারদের একাংশের দূরত্ব তুলে ধরবে, যাঁদের অনেকে অভিবাসনের মতো বিষয়ে বেশি প্রগতিশীল।
গ্লুকসম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বী এদুয়ার ফিলিপ মনে করেন, সাধারণ ক্ষমার পরিকল্পনা ইউরোপীয় চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। গ্লুকসম্যানকে সমর্থনকারী এক কর্মকর্তা বলেছেন, অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক ফিলিপের থেকে গ্লুকসম্যানকে আলাদা করতে কার্যকর হবে।
পলিটিকোর জন্য করা ক্লাস্টার১৭ জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাক্রোঁকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯ শতাংশ আগামী বছর রাফায়েল গ্লুকসম্যানকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে এদুয়ার ফিলিপের পক্ষে এই হার ৪৯ শতাংশ।
জরিপে সামগ্রিকভাবে গ্লুকসম্যানের প্রাপ্ত ভোটের হার ধরা হয়েছে ১৩ শতাংশ, ফিলিপের ১৬ শতাংশ। তাঁরা দুজনই চরম ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেন (৩৩ শতাংশ) ও জঁ-লুক মেলঁশোঁর (১৮.৫ শতাংশ) চেয়ে পিছিয়ে আছেন। প্রথম পর্বে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় পর্বে যাবেন।



