বিক্ষোভের আগে সামাজিক মাধ্যম ও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের কথা ভেবেছিল ফরাসি সরকার
গত শনিবারের বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার উপায় খুঁজেছিল ফ্রান্স সরকার। পরিকল্পনাটির সঙ্গে পরিচিত দুজন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
২৪ অক্টোবরের আগের সপ্তাহে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টেলিকম অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি মোবাইল ইন্টারনেটের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দাঙ্গাকারীদের সমন্বয় ঠেকানোর উপায় খতিয়ে দেখে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং একটি টেলিকম কোম্পানির একজন কর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সরাসরি ফরাসি টেলিকম অপারেটরদের টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্স বন্ধ করতে প্রস্তুত থাকতে বলেন। তার এই চিঠির কথা প্রথম প্রকাশ করে ফরাসি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ব্লাস্ট।
লেকর্নুর কার্যালয়, প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপ বা চিঠির অস্তিত্ব কোনোটিই অস্বীকার করেননি।
সরকারের আশঙ্কা ছিল, ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার দৃশ্য পরের সপ্তাহান্তে আবার দেখা যেতে পারে বা তা আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি, কারণ ২৪ অক্টোবর ঘটনার সংখ্যা ছিল অনেক কম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলেছেন, সরকার সর্বোপরি যেসব যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দলগুলো মিলিত হয় ও সংগঠিত হয়, সেগুলোই বন্ধ করতে চেয়েছিল।
তবে এই পদক্ষেপে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যেত। নির্দিষ্ট পাড়ার মতো সীমিত এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়, আর মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে মোবাইল পেমেন্ট, নিরাপত্তা নজরদারি যন্ত্র এবং জরুরি যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার অপেক্ষাকৃত কম কঠোর একটি বিকল্পও বিবেচনা করেছিল, যেখানে উদাহরণ হিসেবে পরস্পরকে চেনে না এমন মানুষের জমায়েত ঠেকাতে জিওলোকেশন দেখানোর সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।
পার্লামেন্টে তথাকথিত 'যে ভাঙে সে দেয়' বিলের বিতর্কের অংশ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে অ্যাক্সেসের আরও কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জেনেশুনে দাঙ্গায় অংশ নিলে নিজে সম্পদ ধ্বংস না করলেও তাকে আর্থিক দায় নিতে হবে।
একই বিল অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোকে শারীরিক বা যৌন নিপীড়ন, চুরি, ধ্বংস বা সম্পদের ক্ষতিতে উসকানি দেয় এমন কনটেন্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরাতে হবে, যখন সেই কনটেন্টে জনশৃঙ্খলায় গুরুতর বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকবে। আর বিদ্রোহে উৎসাহ দেয় এমন কনটেন্ট সরাতে হবে এক ঘণ্টার মধ্যে।
অন্য আইনপ্রণেতারা অ্যালগরিদমভিত্তিক ভিডিও নজরদারির মাধ্যমে সমস্যা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করা থেকে শুরু করে চুরির পণ্য বিক্রি ঠেকাতে ব্যর্থ অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে শাস্তি দেওয়ার মতো প্রস্তাবও দিচ্ছেন।


