ব্রিটেনে হিট পাম্প ভর্তুকি কাটছাঁটের আশঙ্কা, শঙ্কায় ইনস্টলার ব্যবসাগুলো

ব্রিটেনে ঘর গরম করার কম-কার্বন ব্যবস্থা হিট পাম্প বসানোর ভর্তুকি কাটছাঁট হতে পারে — এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ইনস্টলার ব্যবসায়ীরা। ব্যয় কমানোর পথ খুঁজতে গিয়ে সরকার বুধবারের বাজেটে এই ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ অর্থ বড় পরিমাণে কমিয়ে দিচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে।
২০২২ সালে চালু বয়লার আপগ্রেড স্কিমে (বিইউএস) সম্পত্তির মালিকেরা জীবাশ্ম জ্বালানি ও সরাসরি বৈদ্যুতিক হিটিং ব্যবস্থার বদলে হিট পাম্প ও বায়োমাস বয়লারের মতো কম-কার্বন বিকল্প বসাতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আগাম অনুদান পান।
ওয়াটফোর্ডের সাসটেইন হোমসের অপারেশনস পরিচালক বিল টাক ছয় বছর আগে এয়ার সোর্স হিট পাম্প বসানো শুরু করেন। তখন অন্য হিটিং প্রকৌশলীরা এই সবুজ প্রযুক্তি চলবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। টাক বলেন, এখন আলোচনাই বদলে গেছে; পুরোনো গ্রাহকেরা হিট পাম্প সম্পর্কে জানতে চাইছেন বলে প্রকৌশলীরা তাঁর কাছেই আসছেন।
টাকের গ্রাহকদের প্রায় ৭৫ শতাংশ সরকারি ভর্তুকি ব্যবহার করে হিট পাম্পের খরচ দেন। তাঁর ভাষায়, এই ভর্তুকিই ব্যবসার ভিত্তি; তা চলে গেলে কোম্পানির জন্য তা অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে। সবার চাকরি টিকিয়ে রাখতে ও ব্যবসা বাঁচাতে যা করা দরকার তা করা হবে বলেও তিনি জানান, যদিও তা কীভাবে হবে তা তিনি জানেন না।
সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভবন গরম করা ব্রিটেনের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী। জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো বিভাগ ২০২০-এর দশককে তাপের কার্বন কমানোর জন্য ‘সঙ্কটপূর্ণ দশক’ বলেছে। হিট পাম্প বসানোয় ব্রিটেন অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে: বিশ্বে শীর্ষে থাকা নরওয়েতে প্রতি এক হাজার পরিবারে ৬৩২টি হিট পাম্প বসানো, সেখানে ব্রিটেনে মাত্র ৩ দশমিক ৫টি।
২০ বছর ধরে জেএলএন প্লাম্বিং অ্যান্ড হিটিং দিয়ে নবায়নযোগ্য ব্যবস্থা বসিয়ে আসা জিম লেসি বলেন, খরচ পকেটে সত্যিই লাগলে কেউ গ্রহ বাঁচাতে এগিয়ে আসবে না। এখন বাড়িতে গিয়ে বলা যায়, সাধারণ বয়লারের চেয়ে মাত্র কয়েকশ পাউন্ড বেশি খরচে জ্বালানি ব্যবহারে অনেক সাশ্রয় হবে — ভর্তুকি গেলে সেই যুক্তিই থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্সকোতে অ্যাস্ক রিনিউয়েবলসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম কিলা ভর্তুকি বন্ধ হলে কী হয় তা আগেই দেখেছেন। ২০২২ সালে পরিচ্ছন্ন তাপ উৎপাদনের জন্য পরিবারগুলোকে অর্থ দেওয়া রিনিউয়েবল হিট ইনসেনটিভ বন্ধ হওয়ার পর তাঁর কাজ সপ্তাহে ছয় থেকে আটটি ইনস্টল থেকে শূন্যে নেমে যায়। কিলার ভাষায়, গ্রাহকেরা বলেন হিট পাম্প ভালো হলেও ১৫ হাজার পাউন্ড খরচের মানে নেই, যখন তিন হাজার পাউন্ডে নতুন বয়লার কেনা যায়।
ইনস্টলাররা বলছেন, ভর্তুকি কাটলে তাঁদের শিক্ষানবিশরাও ঝুঁকিতে পড়বেন এবং শিল্পটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হবে। টাক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে এই কাজে না আনলে ভবিষ্যতে ইনস্টলার, মেরামত প্রকৌশলী এবং হিট পাম্পেরই বড় ঘাটতি দেখা দেবে।
হিট পাম্প অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ব্রিটেনে বিক্রি হওয়া হিট পাম্পের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দেশেই উৎপাদিত হয়েছে। লেসি বলেন, বিষয়টি শুধু পাম্প বসানোতেই সীমাবদ্ধ নয়; যাঁরা তা সরবরাহ করেন, উৎপাদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট নানা পেশার মানুষ — সবার ওপর এর ধারাবাহিক প্রভাব পড়বে।
অর্থনীতিবিদ ও সবুজ থিঙ্কট্যাংক ভার্ডান্টের সহপরিচালক জেমস মিডওয়ে বলেন, সবুজ চাকরি ও উৎপাদন থেকে অর্থ সরিয়ে নিলে তা ব্রিটেনকে কার্যকরভাবে পুনঃশিল্পায়িত করার অ্যান্ডি বার্নহামের লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
লেসি বলেন, অনুদান চিরকাল থাকবে বলে তিনি ভাবেননি; প্রযুক্তি আরও ছড়িয়ে পড়লে ও উৎপাদন খরচ কমলে ধীরে ধীরে ব্যবসা ও গ্রাহকদের এর ওপর নির্ভরতা কমবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু বিইউএস অনুদান থেকে হঠাৎ কিছু কেটে নেওয়া বা পুরোপুরি তুলে দেওয়া এ পর্যন্ত করা সব কাজের জন্য বিপর্যয়কর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, বাজেট নিয়ে জল্পনা নিয়ে তাঁরা মন্তব্য করেন না। মুখপাত্র আরও বলেন, পরিবারগুলোর বিল এখনই কমাতে এবং পরিচ্ছন্ন, দেশে উৎপাদিত জ্বালানি ও উষ্ণতর বাড়িতে বিনিয়োগ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে পরিবারগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির দাম থেকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত থাকে।



