মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে কংগ্রেসের হিসাব: হাউসে ডেমোক্র্যাটদের দরকার আর ৩ আসন, সিনেটে ৪

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর এক সপ্তাহ বাকি। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ ভোটাররা ওয়াশিংটনে একক নিয়ন্ত্রণের ওপর একটি মধ্যবর্তী যাচাই দিতে যাচ্ছেন — গত দুই বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে হোয়াইট হাউস এবং হাউস ও সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য, এবং নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় তারা তা ধরে রাখতে তৎপর। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-প্রবণ কিছু এলাকায় ভাগ বসিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
হাউসে ৩ নভেম্বর ১২০তম কংগ্রেসের জন্য দুই বছর মেয়াদে সব ৪৩৫টি আসনেই ভোট হবে। লুইজিয়ানার স্পিকার মাইক জনসন বর্তমানে ঐতিহাসিকভাবে সংকীর্ণ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছেন: ২১৮ জন রিপাবলিকান এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্বতন্ত্র প্রতিনিধি কেভিন কাইলি, যিনি দলীয় পরিচয় ছাড়া পুনর্নির্বাচনের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু সাধারণত ফ্লোরে স্পিকারকে সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাটদের আসন ২১৪টি।
নৈতিকতা-সংক্রান্ত বিষয়ে এপ্রিলে দুই আইনপ্রণেতার পদত্যাগের পর হাউসে দুটি আসন শূন্য রয়েছে — টেক্সাসের সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি টনি গনজালেস এবং ফ্লোরিডার সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি শিলা চেরফিলাস-ম্যাককরমিক, যিনি প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলেও আগস্টের প্রাইমারিতে ভোটারদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন।
এই হিসাব মিলিয়ে দেখলে নির্বাচনের রাতে সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিসের তুলনায় জনসন কার্যত ২২০-২১৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শুরু করবেন।
গত দুই বছরে প্রণীত আইনের রেকর্ড — ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস অ্যাক্টসহ, যা আগে ট্রাম্পের ‘ওয়ান, বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত ছিল — রক্ষা করার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের শেষ মুহূর্তের বার্তায় ভোটারদের ‘মামদানি ম্যাডনেস’ গ্রহণ না করার কড়া সতর্কতাও রয়েছে। এটি নিউইয়র্ক সিটির গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক মেয়র এবং এ বছর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কিছু গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীর সাফল্যের প্রতি ইঙ্গিত।
সিবিএসকে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, ‘আমরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমাচ্ছি। আমরা আরও বেশি মানুষের জন্য আরও চাকরি ও সুযোগ দিচ্ছি। তথ্য তা-ই বলছে, রেকর্ড তা-ই বলছে। সাফল্য চলছেই।’
অন্যদিকে ব্রুকলিনের ডেমোক্র্যাট জেফরিস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার লক্ষ্যে লড়ছেন। তিনি মূলত সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে প্রচার চালাচ্ছেন, যা সরাসরি ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে।
এই মাসে সাংবাদিকদের জেফরিস বলেন, ‘আমেরিকার মানুষ বিরক্ত।’ তাঁর বিশ্বাস, ডেমোক্র্যাটরা হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা জয়ের পথে রয়েছে। স্পিকারের গ্যাভেল হাতে পাওয়ার সুযোগ পেতে হলে জেফরিসের দলকে নিট তিনটি আসন বেশি পেতে হবে, যাতে তাদের সংখ্যা অন্তত ২১৮ — অর্থাৎ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় — পৌঁছায়।
সিনেটে ছয় বছর মেয়াদের জন্য ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩টি ডেমোক্র্যাট ও ২২টি রিপাবলিকান আসন রাজনৈতিক মানচিত্রের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন ও রিপাবলিকানরা বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ৫৩-৪৫ ব্যবধানে এগিয়ে; ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ককাস করা দুই স্বতন্ত্র সদস্য মিলিয়ে সংখ্যালঘু পক্ষের সংখ্যা ৪৭। থুন নিট তিনটি রিপাবলিকান আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবেন, কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোট সমান হলে তা ভাঙার সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ও ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা উল্টে দিতে হলে নিট চারটি আসন বেশি জিততে হবে। অনেক রাজ্যে আগাম ভোট চলছে, আর নির্বাচনের দিন ৩ নভেম্বর।




