হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিল মিসরের পার্লামেন্ট

মিসরের পার্লামেন্ট সোমবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যদি রাজ্যটি সাহায্য চায়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের একের পর এক হামলার পর এই সিদ্ধান্ত এল।
প্রতিনিধি পরিষদ জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস হয়েছে। এটি আল-সিসিকে রিয়াদের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র স্থানগুলোকে বাইরের হামলা থেকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেয়।
তবে পার্লামেন্টের বিবৃতিতে মিসর কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি এবং সেনা পাঠানোর কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি।
এর আগে ১৭ অক্টোবর সানায় হুতি-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের স্পিকার ইয়াহিয়া আল-রায়ি মিসরকে সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছিলেন, এতে মিসরের নিজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হবে।
আল-সিসি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, মিসরের যেকোনো সামরিক ভূমিকা সৌদি ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষায় সীমিত থাকবে; ইয়েমেনে হামলার প্রশ্ন তিনি নাকচ করে দিয়েছিলেন।
ভোটটি এমন সময়ে হলো, যখন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান পাকিস্তানি ও তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তেহরানে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরের লক্ষ্য আলোচনার পথ খোলা এবং আরও সামরিক উত্তেজনা রোধ করা।
আল-সিসি প্রথম পার্লামেন্টের সমর্থন চেয়েছিলেন ১৭ অক্টোবর। সংসদ সদস্যরা ১৮ ও ১৯ অক্টোবর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন, তারপর সিদ্ধান্তটি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। ডেপুটি স্পিকার আসেম এল-গাজ্জার জানিয়েছেন, আলোচনায় প্রায় ৫০০ সংসদ সদস্য বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন। বেশিরভাগ দল অনুরোধটিকে সমর্থন করেছে, তবে কিছু আইনপ্রণেতা সম্ভাব্য সামরিক মিশনের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
মিসরীয় সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ভোটের আগে নিজ দলের সংসদ সদস্যদের ভোটদানে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। দলটি বলেছে, মিসরীয় সেনাদের কী কাজ করতে হবে, তারা কতদিন থাকবে, অভিযানের খরচ কত এবং তারা কী ঝুঁকির মুখে পড়বে — এসব বিষয়ে পার্লামেন্ট পর্যাপ্ত তথ্য পায়নি। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানালেও দলটি অনির্দিষ্ট মেয়াদের সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে এবং কূটনীতির জন্য জায়গা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
আল-সিসির সভাপতিত্বে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ ১৮ অক্টোবর সৌদি আরবকে সমর্থনের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে মিসরের সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশে যুদ্ধমিশনে সশস্ত্র বাহিনী পাঠাতে হলে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদনও প্রয়োজন।
সোমবার তেহরানে সৌদি, পাকিস্তানি ও তুর্কি কর্মকর্তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাকিস্তান থেকে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির, আর তুরস্ক থেকে গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।
এদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হুতিদের লড়াই চলছে। হুতিরা সোমবার দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের পাম্পিং স্টেশন এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট আলাদাভাবে জানিয়েছে, তারা রিয়াদমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ও সংরক্ষণাগার ধ্বংস করেছে।
এই লড়াই বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই জলপথটি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার এবং মিসরের সুয়েজ খালের দিকে যাওয়া পথের অংশ।
পার্লামেন্টের ভোটের আগে সোমবার মিসরের প্রধান শেয়ার সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। রবিবার বিস্তৃত ইজিএক্স১০০ সূচক ১০ শতাংশ পড়ে যাওয়ার পর লেনদেন ৩০ মিনিট বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সৌদি আরব মিসরের বড় রাজনৈতিক মিত্র ও আর্থিক সমর্থক। দেশটি মিসরকে সাহায্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত দিয়ে থাকে। মিসর ২০১৫ সালে সৌদি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটে যোগ দিয়েছিল, মূলত নৌ অভিযানের মাধ্যমে; তাদের যুদ্ধভূমিকার পরিধি ছিল সীমিত।




