নাইজেরিয়ার মিন্নায় আটককেন্দ্রে ৩৩ বন্দির মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য, তদন্তে উঠে এল গাদাগাদি ও অবহেলা

নাইজেরিয়ার মিন্না রাজ্যে আটক ৩৩ জনের মৃত্যুর তদন্তে বলা হয়েছে, তীব্র গাদাগাদি, দুর্বল বায়ুচলাচল এবং সাহায্যের ডাকে কর্মকর্তাদের সাড়া না দেওয়ার কারণেই তাঁরা মারা গেছেন।
ফরেনসিক ও চিকিৎসা প্রমাণে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় আটকে থাকার সঙ্গে যুক্ত তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত ব্যর্থতায় এই মৃত্যু হয়েছে, যা তাপজনিত চাপ ও পানিশূন্যতায় আরও বেড়েছিল। তদন্তে মৃত্যুগুলোকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য’ বলা হয়েছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে রোগের প্রাদুর্ভাবের যে দাবি করা হয়েছিল, প্রমাণ তা সমর্থন করে না।
নিহতদের ১৭ সেপ্টেম্বর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অবৈধ খনির সন্দেহে নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোর তাঁদের আটক রেখেছিল। তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট খনির স্থানগুলোর লাইসেন্স ছিল।
তদন্ত কমিটি বলেছে, প্রায় ২০ বর্গমিটার আয়তনের একটি কক্ষে ৫০ জন বন্দিকে রাখা হয়েছিল। সেখানে চলমান পানি বা সচল শৌচাগার ছিল না এবং খাবার, খাওয়ার পানি ও বাতাস চলাচলও ছিল অপর্যাপ্ত।
একই কক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের একসঙ্গে রাখা হয়েছিল এবং কয়েকজনকে আইনি আটকের সময়সীমার বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছিল বলে কমিটি জানিয়েছে।
খনি শ্রমিকদের ওপর অভিযানটি অনুমোদিত অভিযান আদেশ, যথাযথ পরিকল্পনা বা মাইনিং মার্শালস ইউনিটের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই চালানো হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত দলের প্রধান জোনাথন কুরে বলেন, ‘বন্দিরা বারবার কক্ষের দরজা ও দেয়ালে আঘাত করেছেন, সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছেন এবং পানির জন্য আবেদন করেছেন।’ তিনি বলেন, কাছাকাছি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এসব ডাক শুনলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি।
একজন চিকিৎসাকর্মী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পরও কর্মকর্তারা বারবার সাহায্যের ডাক উপেক্ষা করেছেন বলে তদন্তে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো বলেছেন, দায়ীদের আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি জানান, জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং প্রতিবেদনটি আরও আইনি পদক্ষেপের জন্য ফেডারেশনের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, তদন্তকারীরা আসার আগেই আটককেন্দ্রের হল পরিষ্কার করা হয়েছিল, যা প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কুরে বলেছেন, আটকের ওই পরিস্থিতি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শামিল। তাঁর ভাষায়, এই ঘটনা আটকের মান, তদারকির দায়িত্ব এবং হেফাজতে থাকা মানুষের কল্যাণের প্রতি পদ্ধতিগত অবহেলার পরিণতি দেখিয়ে দিয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রতিটি শোকাহত পরিবারের জন্য ৩ কোটি নাইরা এবং প্রতিটি জীবিত ব্যক্তির জন্য ১ কোটি নাইরা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছে। পরিবারের সদস্যরা গত মাসে মিন্না জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বজনদের মরদেহ গ্রহণ করেছেন।




