ডিএনএ প্রমাণে ১৯৭৪ সালে ইউটায় কিশোরী হত্যায় টেড বান্ডির দায় শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডিএনএ প্রমাণে সিরিয়াল কিলার টেড বান্ডি ১৯৭৪ সালে ১৭ বছর বয়সী মেলিসা অ্যান স্মিথের হত্যার জন্য দায়ী বলে শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দেয়। মেলিসা ১৯৭৪ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং কয়েক দিন পর তাঁর নগ্ন লাশ পাওয়া গিয়েছিল।
এই সিদ্ধান্ত এল কয়েক মাস পর, যখন ইউটা কাউন্টির গোয়েন্দারা এপ্রিলে নিশ্চিত করেছিলেন যে বান্ডি ১৯৭৪ সালেই আরেক ইউটা কিশোরী, ১৭ বছর বয়সী লরা অ্যান এইমকেও হত্যা করেছিলেন।
বান্ডি ১৯৮৯ সালে দুটি হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে দেওয়া ধারাবাহিক স্বীকারোক্তিতে লরাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। লরাকে শেষবার হ্যালোইন পার্টিতে দেখা গিয়েছিল, পরে ১৯৭৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে তাঁকে মৃত ও গুরুতরভাবে মারধর করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে এ বছরই নতুন ডিএনএ পরীক্ষা বান্ডির স্বীকারোক্তিকে সমর্থন করেছে। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, লরার শরীর থেকে নেওয়া বডিলি ফ্লুইড বান্ডির পরিচিত ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলেছে।
সেই আবিষ্কারই স্মিথের হত্যা তদন্ত বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে। লরার শরীর থেকে পাওয়া ওয়াই-এসটিআর ডিএনএ প্রোফাইল মেলিসার শরীর থেকে পাওয়া প্রোফাইলের সঙ্গে জিনগতভাবে মিলেছে।
সল্ট লেক কাউন্টির শেরিফ রোজি রিভেরা মঙ্গলবার বলেছেন, এই মামলা দেখায়, কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও প্রমাণ সংরক্ষণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, তাঁদের কাছে এই মামলাগুলো বারবার দেখার সুযোগ আছে।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে বান্ডি আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চল ও ফ্লোরিডাজুড়ে সহিংস হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জন নারীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইউটা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সার্জেন্ট মাইক রেনল্ডস মঙ্গলবার বলেছেন, মেলিসা অ্যান স্মিথ, লরা অ্যান এইম ও এই মামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত অন্যদের কণ্ঠ ও প্রিয় স্মৃতি, যিনি তাঁদের জীবন কেড়ে নিয়েছেন তাঁর ঘৃণার চেয়ে জোরালো। তিনি বলেছেন, প্রতিটি মামলা বন্ধের মধ্য দিয়ে যেন টেড বান্ডির স্মৃতি মুছে ফেলা যায়।




