স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে এমপিদের প্রভাব নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাই করতে চায় বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।
তবে এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রভাব নিয়ে দলের ভেতরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জরিপ ও আলোচনা চলার মধ্যেই কোথাও কোথাও এমপিরা নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে একাধিক জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সুপারিশ প্রথমে উপজেলা কমিটি থেকে জেলা কমিটিতে যাবে, সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে বিভাগীয় টিমের কাছে পাঠানো হবে।
কোনো পর্যায়ে অনিয়ম বা অসংগতি দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাই সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নির্দেশনায় চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতার ভাষ্য, কোনো কোনো এমপি জরিপের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের পক্ষে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। কয়েকজন এমপির বিরুদ্ধে সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
নেতাদের একটি অংশ বলছে, একক প্রার্থী নির্ধারণে এমপিদের প্রভাবের বাইরে বাছাইয়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে জনসমর্থনের বদলে ব্যক্তিগত পছন্দ প্রাধান্য পেতে পারে, যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে একাধিক প্রার্থী দাঁড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এমপিদের মতামত একেবারে উপেক্ষা করার পক্ষেও নন। তাঁদের বক্তব্য, স্থানীয় এমপিরা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন; এর পাশাপাশি প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা যাচাই করে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং বিএনপি একক প্রার্থীই দেবে। প্রভাবের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মতামত নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ছয় থেকে আটজন সম্ভাব্য প্রার্থী বেরিয়ে আসছেন, আলোচনায় সেই সংখ্যা দুই-তিনে নেমে এসেছে।
সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে দলের চেয়ারম্যান দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী তাঁরা কাজ করছেন; প্রার্থী হতে অনেকে চাইবেন, তবে সবাই মনোনয়ন পাবেন না।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, একক প্রার্থী বাছাই কঠিন হলেও চেষ্টা চলবে এবং দল যারা করে, দলের সিদ্ধান্ত তাঁদের মানতে হবে। মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় প্রধানের নির্দেশনা ও দলের চেষ্টার কথা বলেছেন।




