ধর্ষণের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলে হারলেন অভিনেতা ড্যানি মাস্টারসন, বহাল ৩০ বছরের সাজা

ধর্ষণের অভিযোগে পাওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলে হেরে গেছেন মার্কিন অভিনেতা ড্যানি মাস্টারসন। ফলে তাঁর ৩০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রইল।
'দ্যাট সেভেন্টিস শো' ধারাবাহিকের জন্য সবচেয়ে পরিচিত মাস্টারসন ২০২৩ সালে ২০০৩ সালে দুই নারীকে ধর্ষণের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০০১ সালে তৃতীয় আরেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত তৃতীয় অভিযোগটি বাতিল হয়ে যায়।
মাস্টারসন বলে আসছেন, তিন অভিযোগকারীর সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক সম্মতিতেই হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে তিনি আপিল দায়ের করেন, যেখানে অভিযোগকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং দাবি করা হয়, বিচারক শার্লেইন এফ ওলমেদো সায়েন্টোলজির প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট থাকায় তিনি ন্যায্য বিচার পাননি।
মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার আপিল আদালতে দায়ের করা ৮৯ পৃষ্ঠার রায়ে তিন বিচারকের প্যানেল মাস্টারসনের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। প্যানেলের পর্যবেক্ষণ, বিচার চলাকালে ওলমেদোর বক্তব্যে সায়েন্টোলজি সম্পর্কে 'কোনো বিদ্বেষ বা নিরপেক্ষতা থেকে বিচ্যুতি' দেখা যায়নি।
বিচার চলাকালে কৌঁসুলিরা যুক্তি দিয়েছিলেন, সায়েন্টোলজির বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে মাস্টারসন চার্চে নিজের ভূমিকা ব্যবহার করে হামলাগুলোর জবাবদিহি এড়িয়েছিলেন। তাঁরা আরও বলেন, অভিযোগকারীরা ঘটনা জানাতে দেরি করেছিলেন, কারণ তাঁদের ভয় ছিল, পুলিশের কাছে যাওয়া সায়েন্টোলজির নিয়মের বিরুদ্ধে যাবে এবং তাঁদের প্রতিশোধের শিকার হতে হবে।
তাঁর দুই অভিযোগকারী সাক্ষ্য দেন, সায়েন্টোলজি কর্মকর্তাদের কাছে মাস্টারসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে তাঁদের বলা হয়েছিল, তাঁরা ধর্ষিত হননি; তাঁদের 'নৈতিকতা কর্মসূচি'র মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয়, যাকে তাঁরা বারবার জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন; এবং পুলিশের কাছে না যেতে সতর্ক করা হয়। তাঁদের একজন বলেন, তিনি তা করায় তাঁকে এড়িয়ে চলা ও একঘরে করা হয়েছিল।
ওলমেদো সাবেক সায়েন্টোলজিস্ট ক্লেয়ার হেডলিকে চার্চের বিশ্বাস ও চর্চা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। হেডলি আদালতকে বলেন, সায়েন্টোলজিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে যাওয়াকে একটি 'দমনমূলক কাজ' হিসেবে দেখা হয়, যার শাস্তি হতে পারে বহিষ্কার।
আপিলে মাস্টারসনের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, আদালত চার্চের মতবাদের ব্যাখ্যায় অনুচিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। আপিল প্যানেল লেখেন, 'এই মামলার জুরিকে সায়েন্টোলজির মতবাদ বা বিশ্বাসের সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করতে বলা হয়নি। ওই উদ্দেশ্যে সায়েন্টোলজিসংক্রান্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী হয়নি।' প্যানেল তদন্তের সময়সীমা (স্ট্যাটিউট অব লিমিটেশন) ও সাক্ষ্যসংক্রান্ত রায় নিয়ে পৃথক যুক্তিগুলোও প্রত্যাখ্যান করেন এবং তিনি পর্যাপ্ত আইনি প্রতিরক্ষা পাননি—এ দাবিও নাকচ করেন।
মাস্টারসনের আইনজীবী ক্লিফ গার্ডনার ও এরিক মুলথাউপ রায়টিকে 'দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত' বলে ভ্যারাইটিকে জানিয়েছেন, তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।
২০২৩ সালে মাস্টারসন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চার্চ অব সায়েন্টোলজি এক বিবৃতিতে বলেছিল, বিচার চলাকালে সায়েন্টোলজির বিশ্বাস সম্পর্কে 'সাক্ষ্য ও বর্ণনা সম্পূর্ণ মিথ্যা'। বিবৃতিতে বলা হয়, 'আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে—সায়েন্টোলজিস্ট হোক বা না হোক—কারও অপরাধমূলক আচরণ জানাতে সদস্যদের নিষেধ বা নিরুৎসাহিত করার কোনো নীতি চার্চের নেই।'




