কল্যাণপুর জাহাজবাড়িতে নয়জন হত্যা মামলা: হাসিনাসহ আট আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর

রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে নয়জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ সময় চেয়ে আবেদন করলে প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন এবং শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ মামলায় মোট আসামি আটজন। তাঁদের মধ্যে সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
অন্য ছয় আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলাটি প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন থাকলেও পরে ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামের একটি ভবনে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। ওই অভিযানে নয়জন তরুণ নিহত হন। তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে ওই অভিযানকে পরিকল্পিত জঙ্গি নাটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। বর্তমানে এই অভিযোগের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।




