নোবিপ্রবির সদ্য স্নাতকদের পরামর্শ: প্রথম বর্ষ থেকেই দক্ষতা আর প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষ অনেকের কাছে নতুন বন্ধু, আড্ডা আর স্বাধীনতা উপভোগের সময়। তবে সদ্য স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই সময়েই গড়ে তোলা যায় ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভালো অভ্যাস। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কয়েকজন সদ্য স্নাতক তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরামর্শ দিয়েছেন।
বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সদ্য স্নাতক তৌহিদ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে নতুন পরিবেশ ও স্বাধীন জীবনের আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে নিজের কিছু অপূর্ণতার কথা তুলে ধরে তৌহিদ বলেন, প্রথম বর্ষে থাকলে তিনি তথ্যপ্রযুক্তিতে আরও বেশি দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতেন। মাইক্রোসফট অফিস, ভিডিও এডিটিং ও ফটোগ্রাফিতে কিছুটা অভিজ্ঞতা থাকলেও এসব বিষয়ে আরও শেখার সুযোগ ছিল বলে তিনি মনে করেন।
তৌহিদের মতে, গবেষণায় আগ্রহীদেরও প্রথম বর্ষ থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, কারণ শেষ বর্ষে একাডেমিক ব্যস্ততা বেড়ে গেলে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি কিংবা সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভ্যাসও শুরু থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলোর একটি হলো ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই এ বিষয়ে আরও মনোযোগ দিলে ভালো হতো বলে তিনি মনে করেন।
ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের সদ্য স্নাতক সুবাহ তাসনিম অবশ্য শুধু ফলাফল বা ক্যারিয়ারের প্রস্তুতিতেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বন্ধুত্ব, ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি মনে করেন।
সুবাহর ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখার সুযোগ শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে, নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কিংবা আগে কখনো না করা কোনো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখা যায়, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ায়।
নতুনদের উদ্দেশে সুবাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্লাবের কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া, নতুন কিছু চেষ্টা করা এবং নিজের মতো করে একটি বন্ধুমহল গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
ওশানোগ্রাফি বিভাগের সদ্য স্নাতক আল মাহমুদ প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা একাডেমিক পড়াশোনার জন্য সময় রাখা এবং ভালো সিজিপিএ অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
আল মাহমুদ আরও মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির প্রস্তুতিও শেষ বর্ষের জন্য ফেলে না রেখে প্রথম বর্ষ থেকেই ধীরে ধীরে শুরু করা ভালো বলে তিনি জানান।
তিন স্নাতকের পরামর্শে একটি বিষয় মিলেছে—পড়াশোনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। আল মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্নাতক শেষ হওয়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন, সময় থাকতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে পরবর্তী পথচলা আরও সহজ হতে পারত।




