…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
শিক্ষা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নিরাপত্তা: ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ১ হাজার ২৪টি সহিংসতার ঘটনা, কথা বলার পরিবেশ তৈরির তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নিরাপত্তা: ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ১ হাজার ২৪টি সহিংসতার ঘটনা, কথা বলার পরিবেশ তৈরির তাগিদ
ছবি: সংগৃহীত

সন্তান স্কুলে যাচ্ছে, মাদ্রাসায় পড়ছে, শিক্ষকের কাছে শিখছে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ছে—অভিভাবকেরা চান প্রতিটি জায়গায় সে নিরাপদ থাকুক। কিন্তু কোনো শিশু যখন সেই পরিবেশেই অনিরাপদ বোধ করে, কিংবা পরিচিত কারও আচরণে ভয় পেয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারে না, তখন প্রশ্নটি শুধু অপরাধের নয়; তা পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কেরও।

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে: শিশু নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে, জামালপুরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় একজন ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাগুলো ভিন্ন, এবং অভিযোগ ও আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদমাধ্যমভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণের ৪৫৬টি ঘটনা এবং ধর্ষণের চেষ্টার ১৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায় ৫৯০টির ক্ষেত্রে; অর্থাৎ নথিভুক্ত প্রতিটি ঘটনার পরিণতি বা বিচারিক অগ্রগতির তথ্য সমানভাবে জানা যায়নি।

এই পরিসংখ্যান প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ চিত্র নয়। অনেক ঘটনা সামাজিক লজ্জা, ভয়, পারিবারিক চাপ কিংবা প্রতিশোধের আশঙ্কায় প্রকাশ্যে আসে না। নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শিশুর আত্মবিশ্বাস, পড়াশোনা, অন্যের প্রতি বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, তাই শুধু ঘটনা, মামলা বা সাজার সংখ্যা দিয়ে শিশু সুরক্ষার সাফল্য মাপা যথেষ্ট নয়; কতগুলো ঘটনা আগেই প্রতিরোধ করা গেল, কতজন শিশু নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারল এবং কতজন প্রয়োজনীয় সহায়তা পেল—সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুরা সব সময় নিজেদের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কেউ ভয় পায়, কেউ বুঝতে পারে না যে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণটি অনুচিত, আবার কেউ মনে করে কথাটি বললে তাকে অবিশ্বাস করা হবে বা উল্টো তাকেই দোষ দেওয়া হবে। পরিচিত ও শ্রদ্ধার মানুষ জড়িত থাকলে এই দ্বিধা আরও বাড়ে—শিশুটিকে হয়তো সেই ব্যক্তিকে সম্মান করতে শেখানো হয়েছে, তাঁর কথা মানতে সে অভ্যস্ত, কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বললে পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের মানুষ কষ্ট পাবেন, এমন আশঙ্কায় সে চুপ থাকে।

তাই শিশুদের বয়সোপযোগী ভাষায় শেখানো প্রয়োজন নিজের শরীর ও ব্যক্তিগত সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি; কোনো স্পর্শ, কথা বা আচরণে অস্বস্তি হলে তা প্রকাশ করা যায়; কেউ ভয় দেখালে, গোপন রাখতে বললে কিংবা ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করলে বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নেওয়া যায়। এসব শিক্ষা পরিবার, স্কুল, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া প্রয়োজন। এর অর্থ শিশুদের মনে ভয় তৈরি করা নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, যাতে তারা বিপদ চিনতে পারে এবং জানে সাহায্য চাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অভিভাবকদের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, সন্তানের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ভয় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে যেতে অনীহা দেখা দিলে তাকে বকাঝকা না করে মন দিয়ে শোনা দরকার। এসব লক্ষণ একাই নির্যাতনের প্রমাণ নয়, তবে শান্তভাবে খোঁজ নেওয়ার যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, প্রশিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী—বিভিন্ন ভূমিকায় থাকা মানুষ অন্যদের আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু ব্যক্তিগত সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে শিশু সুরক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া যায় না; এমন ব্যবস্থাও থাকতে হবে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধ করবে, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর শিশু সুরক্ষানীতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সুরক্ষা কর্মকর্তা, গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং অভিযোগের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তার সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা উচিত বলে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শিশুদের সঙ্গে একান্তে কাজের ক্ষেত্রে নিরাপদ আচরণের নির্দেশিকা এবং অভিযোগ উঠলে অভিযুক্তের পরিচয় বা প্রতিষ্ঠানের সুনামকে শিশুর নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায্য প্রক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

এসব ব্যবস্থা শুধু মাদ্রাসা বা স্কুলের জন্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, খেলাধুলার প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, এবং অনলাইন যোগাযোগ, ব্যক্তিগত ছবি ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঝুঁকিও এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।

প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা যত ভালোই হোক, শিশু যদি নিজের বাড়িতে কথা বলার নিরাপদ পরিবেশ না পায়, তাহলে সেই নীতির সুফল সীমিত হয়ে যায়। কোনো শিশু নির্যাতনের কথা জানালে প্রথম প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত তাকে বিশ্বাসের সঙ্গে শোনা, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা নেওয়া—তাকে কেন আগে বলেনি, কেন সেখানে গিয়েছিল কিংবা কেন বাধা দেয়নি, এসব প্রশ্ন করে দায় তার ওপর চাপানো নয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে নীরবতা ভাঙা যেমন জরুরি, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিচয় ছড়িয়ে দেওয়া, যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

শিক্ষা

জাপানের ও-সোজি মডেলে ঢাকার ২১ স্কুলে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ পাইলট প্রকল্প শুরু

জাপানের ‘ও-সোজি’ দর্শনের আলোকে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও শ্রমের মর্যাদা গড়ে তোলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচ…

শিক্ষা

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলে ১৫০ শিশুর পরিবেশ শিক্ষা কার্যক্রম ও পোস্টার প্রদর্শনী

ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুলে শিশুদের জলবায়ু বিপর্যয় বিষয়ে সচেতন করতে ‘পাখি ও ঔষধি গাছ বাঁচাই, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করি’ শীর্ষক পোস্টার প্রদর…

বেরোবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগপূর্তি: সেরা অনুসন্ধানী রিপোর্টার সাজ্জাদুর রহমান
শিক্ষা

বেরোবি সাংবাদিক সমিতির এক যুগপূর্তি: সেরা অনুসন্ধানী রিপোর্টার সাজ্জাদুর রহমান

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (বেরোবিসাস) এক যুগপূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ উপলক্ষ্যে বিশ্ব…

শিক্ষা

৩৬ দিন পর চুয়েটে এক বিভাগে ক্লাস শুরু, বাকি ১১ বিভাগে হয়নি

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আংশিকভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ফিরেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯…