ওহাইওর সিনেট লড়াইকে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ বললেন থুন, হাস্টেডের পাশে দাঁড়িয়ে সতর্ক করলেন ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন ওহাইওর সিনেট নির্বাচনকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ওহাইওর লিমায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী সিনেটর জন হাস্টেডের পক্ষে প্রচার অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক ডা. মেহমেত অজের বক্তব্যের পর থুন অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার খুঁজে বের করার কাজে অজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অজকে সেই কাজ চালিয়ে যেতে হলে রিপাবলিকানদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হবে।
থুন জনতাকে বলেন, হাস্টেড আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত হলেই তা সম্ভব। তার ভাষায়, ‘এটাই গ্রাউন্ড জিরো। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এটাই ফায়ারওয়াল।’ তিনি বলেন, এর ওপরই নির্ভর করছে আগামী দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের হাউস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের মুখোমুখি হতে হবে কি না, যেখানে শুধু তদন্তই চলবে।
হাউসের সংখ্যালঘু দলের নেতা হাকিম জেফ্রিস ও প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকসসহ শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তদন্তে সাবপোয়েনা ক্ষমতা ব্যবহারের ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির র্যাঙ্কিং সদস্য মিকস সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, তারা সেই হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করবেন এবং কংগ্রেসের মতো আচরণ করবেন।
থুন বলেন, হাউস যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে যায়, তারা প্রথমেই প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করবে। তার ভাষায়, তাতে সিনেটে বিচার হবে, আর ২৪ ঘণ্টার অভিশংসন বিচার ও ২৪ মাসের অভিশংসন বিচারের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
বক্তব্যে হাস্টেডের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনকে আক্রমণ করেন থুন। ব্রাউন ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওহাইওর সিনেটর ছিলেন; ২০২৪ সালের নির্বাচনে হেরে তিনি আসনটি রিপাবলিকান বার্নি মোরেনোর কাছে ছেড়ে দেন। থুন বলেন, ৩০ বছর ধরে ব্রাউন চাক শুমার, ন্যান্সি পেলোসি ও জো বাইডেনের ‘রাবার স্ট্যাম্প’ ছিলেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
হাস্টেডের প্রশংসা করে থুন বলেন, তিনি নীতিবান, পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান ও সমাধানমুখী মানুষ। রাজ্য আইনসভা ও ওহাইওর লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে এবং পরে ওয়াশিংটনে তিনি কর কমিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন। থুনের দাবি, ১৭ মাস ধরে অবৈধভাবে কাউকে দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
থুন বলেন, ‘এটা ছুরির লড়াই, খালি হাতের মারামারি।’ তিনি বলেন, বাজি এর চেয়ে বেশি হতে পারে না, পরিণতিও এর চেয়ে বড় হতে পারে না, তাই ভোটারদের ভোট দিতে আসা অত্যন্ত জরুরি।
হাস্টেড নিজেও লড়াইটি কাছাকাছি হবে বলে পুনরায় বলেন এবং রিপাবলিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি প্রতিযোগিতাকে ফুটবল ম্যাচের চতুর্থ কোয়ার্টারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, প্রতিপক্ষ তাদের ভয় দেখাতে ও হাল ছাড়াতে চাইবে, কিন্তু ভোটারদের কাজই আসল।
ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে ওহাইওর সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ব্রাউন সামান্য এগিয়ে আছেন: ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা ব্রাউনকে এবং ৪৭ শতাংশ হাস্টেডকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।
নেতা জেফ্রিস ও প্রতিনিধি মিকস, ব্রাউনের প্রচার শিবির, নেতা থুন ও সিনেটর হাস্টেড ফক্স নিউজ ডিজিটালের অতিরিক্ত মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।




