ট্রাম্পের ২১ মাসে সহিংস অপরাধী গ্রেপ্তারে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের গত ২১ মাসে সংস্থাটি ৪৭ হাজারের বেশি সহিংস অপরাধী ও গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এই সংখ্যা জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ ২১ মাসের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেশি। বুধবার প্রকাশিত সংস্থার তথ্যে এসব পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে শিশু যৌন নিপীড়ক ও মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারও বেড়েছে ১৩ শতাংশ; এই অপরাধে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬ হাজার।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের নেতৃত্বে গত ২১ মাসে বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে মিলে এই এফবিআই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সহিংস অপরাধের সবচেয়ে বড় হ্রাস এনেছে।’
প্যাটেল কয়েকটি মূল পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে খুনের হার কমেছে ৩০ শতাংশ, সহিংস অপরাধের সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার বেড়েছে ১১৪ শতাংশ এবং জব্দ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০০ কেজির বেশি ফেন্টানিল — যা সংস্থাটির হিসাবে ৩৫ কোটির বেশি আমেরিকানকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ।
এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এফবিআইয়ের শীর্ষ দশ মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতকের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যা আগের চার বছরে গ্রেপ্তারের সংখ্যার আড়াই গুণ। নতুন তৈরি ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স’ তালিকা থেকেও প্রথম চার মাসে ছয়জন পলাতককে ধরা হয়েছে।
টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হ্যানিটি’-তে অংশ নিয়ে প্যাটেল ‘অপারেশন সামার হিট ২.০’ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই উদ্যোগের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সহিংস অপরাধ দমনে ট্রাম্পের জোর দেওয়ায় এফবিআইয়ের গুরুত্ব মাঠপর্যায়ের অভিযানের দিকে সরে গেছে, যা সংস্থাটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় রাজনৈতিক পক্ষপাত, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও বড় তদন্ত পরিচালনা নিয়ে রিপাবলিকানদের তীব্র সমালোচনার মুখে ছিল এফবিআই। সেই প্রসঙ্গে প্যাটেল বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার সময় তাঁর সংস্থা আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হুমকির পরিবেশগুলোর একটির মুখোমুখি ছিল।
প্যাটেল বলেন, ‘এই এফবিআই ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বড় আকারে সাড়া দিয়েছে। এমনটা তখনই হয়, যখন একজন প্রেসিডেন্ট পুলিশের পাশে দাঁড়ান, একজন অ্যাটর্নি জেনারেল নিরলসভাবে অপরাধীদের বিচার করেন এবং সারা দেশের ভালো পুলিশ সদস্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।’




