মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সুদহার অপরিবর্তিত রাখল ফেড, ডিসেম্বরে বাড়ানোর প্রত্যাশা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার তার মূল সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ব্যাংকটি জানিয়েছে, একগুঁয়ে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই থেকে তারা সরে আসছে না।
ফেডের হার নির্ধারণী কমিটি বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, মূল্যস্ফীতি এখনো উঁচু পর্যায়ে রয়েছে। মূল্য স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি নবায়ন করেছে কমিটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এই লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গত সেপ্টেম্বরে আগের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ফেড তিন বছরের বেশি সময় পর প্রথমবার সুদহার বাড়িয়েছিল। এরপরের তথ্যে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে—সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্য আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসের বার্ষিক বৃদ্ধির চেয়েও বেশি।
বিমা প্রতিষ্ঠান আলিয়ান্স ট্রেডের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড্যান নর্থ বলেন, মূল্যস্ফীতির রেখা নিচে না নেমে ওপরে উঠছে, যা ভুল দিকের গতি। তাঁর মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে হার বাড়ানো হলে তা সন্দেহের জন্ম দিত, তাই নির্বাচনের আগের সতর্কতাও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে।
এবারের বিরতির পর বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক প্রত্যাশা, ডিসেম্বরের পরবর্তী বৈঠকে ফেড মূল সুদহার বাড়াবে, যাতে চাহিদা কমিয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
তবে সিদ্ধান্তে সবাই একমত ছিলেন না। কমিটির দুই সদস্য—ফেড গভর্নর লিসা কুক এবং ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বেথ হ্যামাক—বুধবারই সিকি শতাংশ পয়েন্ট হারে বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ছিলেন।
ফেডের মূল হার বর্তমানে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ। এই হার ক্রেডিট কার্ডের মতো স্বল্পমেয়াদি ঋণের খরচ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘমেয়াদি হার বন্ড বাজার নির্ধারণ করলেও ফেডের সিদ্ধান্ত তাতে প্রভাব ফেলতে পারে। এ মাসের শুরুতে বন্ধকি ঋণের হার তিন বছরের সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছিল, পরে তা সামান্য কমে। ঋণের উঁচু খরচ আবাসন বাজারকে চাপে রেখেছে, যা চার বছর ধরে মন্দায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অর্থনীতির অন্য অংশ তুলনামূলক কম সংবেদনশীল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগের গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে ড্যান নর্থের মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে—তাঁর ভাষায়, এআই কোম্পানিগুলো সুদের হার নিয়ে মাথা ঘামায় না। ডেটা সেন্টার নির্মাণের তাড়া নির্মাণসামগ্রী ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের দাম বাড়াচ্ছে।
ভোক্তা ব্যয়ও টিকে আছে, যার পেছনে শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি থেকে উপকৃত উচ্চ-আয়ের ক্রেতাদের ভূমিকা রয়েছে। তবে কম ধনী পরিবারগুলোর অবস্থা ভিন্ন—সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে গড় মজুরি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।
মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, নিম্ন ও মধ্য আয়ের আমেরিকানরা সত্যিকারের সংগ্রাম করছেন, তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা আসলে কমছে। তাঁর মতে, মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ভালো বোধ না করার বড় কারণও এটাই।



