কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধের নিন্দা প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে: পক্ষে ১৩০, বিপক্ষে ১৭ ভোট
যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধের নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাব আবারও পাস হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন কমাতে তৎপরতা চালালেও বুধবারের ভোটে প্রস্তাবটি বড় ব্যবধানেই পাস হয়।
ভোটের ফল অনুযায়ী, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩০টি দেশ এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ১৭টি দেশ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রয়েছে। ভোটদানে বিরত থেকেছে আরও ২৫টি দেশ। বিরত থাকা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ও ইতালির মতো দেশও রয়েছে, যারা আগে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিত।
সাধারণ পরিষদ তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতি বছর এই অবরোধের নিন্দা জানিয়ে ভোট দিয়ে আসছে।
ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবার জনগণকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অজুহাত, চাপ কিংবা প্রচারণা তথ্য ও সত্যের শক্তির সামনে টিকবে না।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই মার্কিন অবরোধ কিউবাকে বিচ্ছিন্ন করা ও দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলার চেষ্টার অংশ। বিশ্বমঞ্চে এই অবরোধ ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে এবং দ্বীপদেশটির মানুষের দুর্দশা বাড়ার সঙ্গে এটিকে যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জ্বালানি অবরোধসহ আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে চাপ আরও বাড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি হাভানাকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা বুধবারের ভোটে বিরত থাকা দেশের সংখ্যা বাড়াকে সেই তৎপরতার ফল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কিউবার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবে, তাদের শুল্ক, ভিসা বিধিনিষেধসহ নানা শাস্তির হুমকি দিয়েছে।
ভোটের পর সাংবাদিকদের জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, কোরিয়া ও জার্মানির মতো বড় অর্থনীতির দেশসহ এতগুলো দেশ অবস্থান বদলানোয় তিনি সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, কূটনীতিতে সময় লাগে, তবে অবস্থান বদলানো দেশের সংখ্যা তিন গুণ হওয়ায় এই ধারা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদে বিতর্কের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে চিৎকার করে এবং তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনাও ঘটে বলে খবরে বলা হয়েছে।
ওয়াল্টজ বুধবার বলেন, কিউবার জাতিসংঘ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রিচার্ড তুর দে লা কনসেপসিওনকে একজন মার্কিন কূটনীতিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।



