মিনেসোটায় শিশুখাদ্য কর্মসূচির অর্থ আত্মসাত: প্রধান অভিযুক্তের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
করোনা মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভাবী শিশুদের খাওয়ানোর নামে ফেডারেল খাদ্য কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এক ব্যক্তিকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচিত এই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপও ছিল চোখে পড়ার মতো।
কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম সালিম সাইদ, বয়স ৩৭ বছর। তিনি মিনিয়াপলিসে সাফারি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অভাবী শিশুদের খাবার দেওয়ার দাবি করে তিনি বাস্তবে দেওয়া খাবারের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জালিয়াতির জন্য তিনি দায়ী, যার একটি অংশ তাঁর নিয়োগ করা অন্যদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মার্কিন জেলা জজ ন্যান্সি ব্রাসেল বলেন, ‘আপনি শুধু করদাতাদের অর্থ নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেননি। আপনি আমাদের অঙ্গরাজ্যের সুনামও নিজের সঙ্গে টেনে নামিয়েছেন।’
প্রসিকিউটররা আদালতে দাখিল করা নথিতে বলেছেন, সাইদ প্রতিদিন ৬ হাজার খাবার বিতরণের ‘হাস্যকর’ দাবি করতেন, অথচ এফবিআইয়ের ক্যামেরায় দেখা গেছে দিনে মাত্র ৪০ জন খাবার নিতে আসছেন। তাঁদের ভাষায়, ‘আসামি ও তাঁর কেন্দ্রগুলো হাজার হাজার শিশুকে খাওয়ায়নি; তিনি একটি হিসাবি, লাভজনক মিথ্যা পরিবেশন করেছেন।’
সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া সাইদ ২০২৫ সালের বিচারে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং বলেছিলেন, অনেক খাবার কেন্দ্রের বাইরে পৌঁছে দেওয়া হতো। তবে বুধবার সাজা ঘোষণার শুনানিতে তিনি অবস্থান বদলে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারি জোন ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। তিনি সরকারের সেই দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাইদকে এই জালিয়াতির ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বলা হয়েছে।
করোনার সময় ফেডারেল খাদ্য কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সাধারণত স্কুলের মাধ্যমে শিশুদের খাওয়ানো এই কর্মসূচিতে রেস্টুরেন্টগুলোও অংশ নিতে পারত এবং স্কুলের বাইরের জায়গাতেও খাবার বিতরণের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছিল।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা ২১ মাস ধরে সাইদ হাজার হাজার ভুয়া প্রতিপূরণের দাবি জমা দিয়েছেন। প্রতিটি জমায় দাবি করা হয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবার দেওয়ার কথা, অথচ তালিকাভুক্ত শিশুরা ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
সরকার বলছে, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে সাইদ ১২ লাখ ডলারের বাড়ি, বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট এবং ৮৭ হাজার ডলারের একটি পিকআপ ট্রাক কিনেছেন।
২০২৫ সালে সাইদের সঙ্গে দোষী সাব্যস্ত হন মিনেসোটার অলাভজনক সংস্থা ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’-এর নেতা এইমি বক। এই জালিয়াতি পরিকল্পনার জন্য তিনি ৪২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং তাঁকে ২৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের নিরীক্ষকরা দেখেছেন, মিনেসোটার শিক্ষা বিভাগ ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ সম্পর্কে অসংখ্য অভিযোগ পেলেও প্রায়ই সংস্থাটিকেই নিজেদের তদারকি করতে বলা হতো। ফেডারেল অর্থায়নের কর্মসূচিতে চুরি নিয়ে ট্রাম্পের নিরন্তর সমালোচনার মুখে গভর্নর টিম ওয়ালজ জানুয়ারিতে ঘোষণা দেন, তিনি পুনর্নির্বাচনে অংশ নেবেন না।


