ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, অনিয়মের কোনো প্রমাণ মেলেনি: সিইসি
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, বিরোধীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা থেকে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিইসি। এ সময় তাঁর সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত থেকে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিইসি উল্লেখ করেন, আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কেন্দ্রে আসছেন। আবহাওয়া অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটারদের সমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা বিষয়ে সিইসি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর নিয়মিত টহল ও অবস্থান নির্বাচন ভবন থেকেই ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি বহাল রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন গোটা প্রক্রিয়াটি জনগণের সামনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে চায়। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিভাগ যেন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে, সে বিষয়ে কমিশন সতর্ক রয়েছে। নির্বাচনী সংঘাত বা উত্তেজনার আবহ দূর করে ভোটকে একটি আনন্দমুখর নাগরিক উৎসবে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশে একটি সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে ব্যালটের লড়াইয়ে সাধারণ জনগণের রায়ই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিমত জানান।
ভোট প্রদানের পর পরিবেশ মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন জানান, সবেমাত্র ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সার্বিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ আবহ বিরাজ করছে এবং ভোটাররা কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কেন্দ্রে আসছেন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তই শেষ কথা এবং সেই রায়কে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা সবার থাকা উচিত।



