ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৩ ভুয়া ভোটার আটক, সিসি ও বডি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ চলাকালে তিনজন ভুয়া ভোটারকে আটক করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। উপনির্বাচনটির সার্বিক পরিস্থিতি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে থাকা বডি অর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অবস্থিত আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই সেল থেকে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বেলা ১১টার দিকে সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং এই উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছে না নির্বাচন কমিশন।
সিইসি বলেন, “পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। এই উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না। জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, জোটটির পক্ষ থেকে করা অভিযোগগুলো সমাধান করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সেগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)সহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে উৎসবমুখর নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই কমিশনের লক্ষ্য, যাতে দেশে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক নির্বাচনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পায়।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং হিজড়া ভোটার চারজন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি ও ভোটকক্ষ ৯৮৯টি। ভোটগ্রহণে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাসহ মোট ৩ হাজার ১৫২ জন দায়িত্ব পালন করছেন।
উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন এই উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



